শনিবার ৩০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪০০-৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, বাতিল হচ্ছে চলমান তহবিল আগামী ২০২৬-২৭: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মুনাফাসহ পূর্ণ টাকা ফেরত চান ৬ এনবিএফআইয়ের আমানতকারীরা; শুধু মূলধন ফেরতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান অর্থনীতিতে গতি আনতে ও ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা আস্থা হারানো ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বের গল্প আসন্ন বাজেটে পরোক্ষ করের ফাঁদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করার দাবি এনডিএফের<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিলে কার্যকর অংশীদারিত্বে এগিয়ে আসবে নিউজিল্যান্ড: বিজিএমইএ-এর সঙ্গে বৈঠকে হাইকমিশনার

আতাকামা ট্রেঞ্চ অভিযানে চীন ও চিলি: অতল সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনে যৌথ গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে অবস্থিত আতাকামা ট্রেঞ্চের (Atacama Trench) রহস্য উন্মোচনে প্রথমবারের মতো যৌথ অভিযানে নেমেছে চীন ও চিলি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিলির ভালপারাইসো বন্দরে চীনা গবেষণা জাহাজ ‘তান সুয়ো ই হাও’ (Exploration No. 1)-এর ডকিং এবং এই বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি

এই বৈজ্ঞানিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চিলি উপকূলের ৪৩৫ মাইল বিস্তৃত আতাকামা ট্রেঞ্চের জীববৈচিত্র্য এবং ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা। প্রায় ৮,০০০ মিটার গভীর এই সামুদ্রিক গিরিখাতটি বিশ্বের অন্যতম চরম প্রতিকূল পরিবেশ হিসেবে পরিচিত। এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে চীনের অত্যাধুনিক মানবচালিত সাবমার্সিবল ‘ফেনদৌঝে’ (Fendouzhe), যা ১০,০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

অভিযানটির প্রধান গবেষক ডু মেংরান বলেন, “এটি বিশ্বের একমাত্র মানবচালিত সাবমার্সিবল যা সমুদ্রের তলদেশের হডাল জোনে (৬,০০০ মিটারের নিচে) দীর্ঘসময় কাজ করতে সক্ষম।”

গবেষণার তিনটি প্রধান দিক

এই তিন মাসব্যাপী অভিযানটি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে:

১. দুর্যোগ প্রতিরোধ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্পের বেল্টগুলো নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।

২. জলবায়ু পরিবর্তন: কার্বন ‘রিসাইক্লার’ হিসেবে এই গভীর গিরিখাতটি কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা খতিয়ে দেখা।

৩. বায়োমেডিসিন: সূর্যের আলোহীন পরিবেশে টিকে থাকা বিরল প্রাণীর অণুগুলো থেকে নতুন প্রজন্মের ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাইলফলক

চিলিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত নিউ কিংবাও এই অভিযানকে দুই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি চীন ও চিলির মধ্যে প্রথম যৌথ সমুদ্র গবেষণা অভিযান, যা প্রমাণ করে যে বিজ্ঞানের কোনো সীমানা নেই।”

চিলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আঞ্চলিক মন্ত্রী রদ্রিগো গঞ্জালেজ এই সহযোগিতাকে জ্ঞানের অন্বেষণে একটি ‘বিশাল উল্লম্ফন’ (Quantum Leap) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, এই অভিযানটি জাতিসংঘের অনুমোদিত ‘গ্লোবাল হডাল এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রথম বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। চীনা একাডেমি অব সায়েন্স এবং চিলির কনসেপসিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে।