বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবল সংকটে ধুঁকছে ১৫৩ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন করা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ প্রধান উপদেষ্টাকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মনের কথা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ চুক্তি: বিজিএমইএ-র প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও অভিনন্দন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এখন থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক’ আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং লেনদেনের সময়সূচী নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ৪ দিন বন্ধ বিশ্বমন্দা ও অভ্যন্তরীণ সংকটে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, আশার আলো দেখাচ্ছে জানুয়ারি বিটকয়েনের বড় ধস: এক সপ্তাহে ২৫% মূল্য হ্রাস, নেমেছে ৬৩ হাজার ডলারের নিচে

আতাকামা ট্রেঞ্চ অভিযানে চীন ও চিলি: অতল সমুদ্রের রহস্য উন্মোচনে যৌথ গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে অবস্থিত আতাকামা ট্রেঞ্চের (Atacama Trench) রহস্য উন্মোচনে প্রথমবারের মতো যৌথ অভিযানে নেমেছে চীন ও চিলি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিলির ভালপারাইসো বন্দরে চীনা গবেষণা জাহাজ ‘তান সুয়ো ই হাও’ (Exploration No. 1)-এর ডকিং এবং এই বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি

এই বৈজ্ঞানিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চিলি উপকূলের ৪৩৫ মাইল বিস্তৃত আতাকামা ট্রেঞ্চের জীববৈচিত্র্য এবং ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা। প্রায় ৮,০০০ মিটার গভীর এই সামুদ্রিক গিরিখাতটি বিশ্বের অন্যতম চরম প্রতিকূল পরিবেশ হিসেবে পরিচিত। এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে চীনের অত্যাধুনিক মানবচালিত সাবমার্সিবল ‘ফেনদৌঝে’ (Fendouzhe), যা ১০,০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

অভিযানটির প্রধান গবেষক ডু মেংরান বলেন, “এটি বিশ্বের একমাত্র মানবচালিত সাবমার্সিবল যা সমুদ্রের তলদেশের হডাল জোনে (৬,০০০ মিটারের নিচে) দীর্ঘসময় কাজ করতে সক্ষম।”

গবেষণার তিনটি প্রধান দিক

এই তিন মাসব্যাপী অভিযানটি মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে:

১. দুর্যোগ প্রতিরোধ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে সুনামি সৃষ্টিকারী ভূমিকম্পের বেল্টগুলো নিয়ে গবেষণা করে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।

২. জলবায়ু পরিবর্তন: কার্বন ‘রিসাইক্লার’ হিসেবে এই গভীর গিরিখাতটি কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা খতিয়ে দেখা।

৩. বায়োমেডিসিন: সূর্যের আলোহীন পরিবেশে টিকে থাকা বিরল প্রাণীর অণুগুলো থেকে নতুন প্রজন্মের ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাইলফলক

চিলিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত নিউ কিংবাও এই অভিযানকে দুই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি চীন ও চিলির মধ্যে প্রথম যৌথ সমুদ্র গবেষণা অভিযান, যা প্রমাণ করে যে বিজ্ঞানের কোনো সীমানা নেই।”

চিলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আঞ্চলিক মন্ত্রী রদ্রিগো গঞ্জালেজ এই সহযোগিতাকে জ্ঞানের অন্বেষণে একটি ‘বিশাল উল্লম্ফন’ (Quantum Leap) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, এই অভিযানটি জাতিসংঘের অনুমোদিত ‘গ্লোবাল হডাল এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে প্রথম বড় ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। চীনা একাডেমি অব সায়েন্স এবং চিলির কনসেপসিওন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে।