ঢাকা, ২৯ জুলাই (বিডিইকোনমি ডটনেট)- দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই নোয়াখালীতে নতুন একটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, খনন ও পরবর্তীতে ‘ড্রিল স্টেম টেস্ট’ (ডিএসটি) সফলভাবে সম্পন্ন হলে এ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট (৭ এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস যুক্ত হতে পারে।
নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার নাবিপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে “সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন-cum-উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প”। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির খননকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয় এবং বুধবার (২৯ জুলাই) থেকে পূর্ণাঙ্গ খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সুন্দলপুর-৪ প্রকল্পের ড্রিলিং ইন-চার্জ জাকির হোসেন খান জানান, ভূগর্ভের ১,৫৫০ মিটার গভীরতাকে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরে খনন কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ১,৩৬১ মিটার এবং ১,৪৫০ মিটার গভীরতায় দুটি সম্ভাব্য স্তরে গ্যাস মজুদের আশা করা হচ্ছে। নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ‘ডিরেকশনাল ওয়েল’ (দিকনির্দেশক খনন) পদ্ধতি এবং ‘মেজারমেন্ট হোয়াইল ড্রিলিং’ (এমডব্লিউডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টানা ৪৫ দিনের খননকাজ এবং এর পরবর্তী ১৫ দিনের ডিএসটি পরীক্ষা শেষে এই কূপের প্রকৃত গ্যাস মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান উৎপাদনচিত্র:
বাপেক্সের তথ্যমতে, এই অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৬ সালে— বেগমগঞ্জে প্রথম কূপ অনুসন্ধানের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপ খনন করা হলেও দুটি কূর্পেই কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৩ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়, যা ২০১৮ সালের ওয়ার্কওভারের পর থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৮ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করে আসছে।
এছাড়া, নোয়াখালী অঞ্চলে বাপেক্সের অধীনে সুন্দলপুর-১, ২ ও ৩ নামে আরও তিনটি কূপ রয়েছে। বর্তমানে সুন্দলপুর-১ ও ৩ এর উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও সুন্দলপুর-২ থেকে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বাপেক্স জানিয়েছে, চলমান ওয়ার্কওভারের কাজ শেষ হলেই সুন্দলপুর-৩ কূপ থেকে পুনরায় গ্যাস উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে।
সংকটকালীন স্বস্তির প্রত্যাশা:
কক্সবাজারের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নোয়াখালীর এই নতুন কূপটির সাফল্য অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।