বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ৬ দফা রোডম্যাপ; শিল্পে জ্বালানি নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: মাহদী আমিন হস্তশিল্প খাতের উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও বাংলাক্রাফটের সমঝোতা স্মারক সই ‘হেয়ারকাট’ বাতিল ও মুনাফাসহ আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাসেল-৩: ব্যাংকের ‘এনএসএফআর’ রিপোর্টিং কাঠামো সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর ভুয়া ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতি, এডিবি’র সতর্কবার্তা<gwmw style="display:none;"></gwmw> ঢাকায় সাফা আঞ্চলিক কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw>

ব্যাসেল-৩: ব্যাংকের ‘এনএসএফআর’ রিপোর্টিং কাঠামো সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা | ২১ জুলাই (বিডি ইকোনমি)-ব্যাসেল-৩ (Basel III) তারল্য কাঠামোর অধীনে ব্যাংকগুলোর ‘নেট স্টেবল ফান্ডিং রেশিও’ (NSFR) রিপোর্টিংয়ের নিয়মাবলীতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপেন মার্কেট অপারেশনসের (ওএমও) হালনাগাদ হিসাব পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় সাধনে এই সংশোধন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে পাঠানো হয়েছে। এসডিএডি-র পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এতে স্বাক্ষর করেন।

সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত সময়ের এনএসএফআর রিটার্ন থেকেই নতুন এই সংশোধিত কাঠামো কার্যকর হবে।

সংশোধনের পটভূমি ও মূল পরিবর্তনসমূহ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জারীকৃত ওএমও নির্দেশিকা (ডিএমডি সার্কুলার নম্বর ০২)-এর আলোকেই মূলত এ পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। আগের নিয়মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ)-কে সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে নতুন ওএমও নীতিমালায় এগুলোকে ‘জামানতযুক্ত ঋণ’ (Collateralized Borrowings) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টিংয়ে ঝুঁকি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি ও সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে এনএসএফআর নির্দেশিকায় যে মূল পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে:

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জামানতযুক্ত ঋণ: এনএসএফআর টেমপ্লেটের ৭ নম্বর ক্রমিকে “Collateralized Borrowing/Financing from Central Bank” শিরোনামে নতুন একটি উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। এর অধীনে সেন্ট্রাল ব্যাংক রেপো, এসএলএফ, আইবিএলএফ, অ্যাসিওরড রেপো ও সমজাতীয় ঋণ প্রদর্শন করতে হবে।
  • আন্তঃব্যাংক রেপো: আন্তঃব্যাংক রেপো (Interbank Repo) লেনদেনকে এখন থেকে ৬ নম্বর ক্রমিকে “Amount owed to financial institutions” খাতের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিকিউরিটিজ: সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত ১২ ও ১৩ নম্বর ক্রমিক দুটি প্রতিস্থাপন করে নতুন ১৩ নম্বর ক্রমিকে “Unencumbered Marketable Government and Central Bank Securities” এবং ১৪ নম্বর ক্রমিকে “Encumbered Marketable Government and Central Bank Securities” করা হয়েছে।মূল্যায়ন পদ্ধতি: মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধারণকৃত (HTM) সিকিউরিটিজ ‘অ্যামোরাইজড কস্ট’ মূল্যে এবং ট্রেডিংয়ের জন্য রাখা (HFT) সিকিউরিটিজ বাজারমূল্যে (Market Value) প্রদর্শন করতে হবে।
  • আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি ব্যাংকের এক্সপোজার: ফাইন্যান্স কোম্পানি ও বিদেশি ব্যাংকে রক্ষিত ঋণ ও আমানতের জন্য নতুন শ্রেণিবিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ নম্বর ক্রমিকে দেশের অন্যান্য ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এবং ২৩ নম্বর ক্রমিকে বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত আমানত ও ঋণের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে।

বাস্তবায়নের নির্দেশাবলি

বাংলাদেশ ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত সময়ের জন্য প্রণীত এনএসএফআর বিবরণী থেকে নতুন ফরম্যাট (সংযোজনী-১) অনুসরণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি জারীকৃত (ডিওএস সার্কুলার নম্বর ০১) মূল নির্দেশিকার অন্যান্য সকল শর্তাবলী ও নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।