শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ রোধে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীর অবিলম্বে বাস্তবায়ন জরুরি: সাবেক গভর্নর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব, বছরজুড়ে দেওয়া যাবে রিটার্ন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট: উন্নয়ন ধারা সচল, সংস্কার ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক, আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব বাজেট ২০২৬-২৭: সংস্কার প্রস্তাবকে ফিকির স্বাগত, তবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল খোলা রাখার সুযোগ চায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আগামীকাল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবিবির; এসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ

করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব, বছরজুড়ে দেওয়া যাবে রিটার্ন

ঢাকা, (বিডিইকোনমি) : মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩.৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে সরকার।

আজ জাতীয় সংসদে ২০ premiership অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই সংশোধিত সীমা আগামী দুই অর্থবছর (২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত) কার্যকর থাকবে।

এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়েছিলেন। নবনির্বাচিত সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এটিকে আরও বাড়াল, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষ ক্যাটাগরির করদাতাদের জন্য বাড়তি ছাড়

অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির করদাতাদের জন্য উচ্চতর করমুক্ত সীমার প্রস্তাব করা হয়েছে:

  • নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিক: ৪.২৫ লাখ টাকা।
  • তৃতীয় লিঙ্গ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী করদাতা: ৫.০০ লাখ টাকা।
  • গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানে’ আহত যোদ্ধারা: ৫.২৫ লাখ টাকা।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক: তাদের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিগত সীমার অতিরিক্ত আরও ৫০,০০০ টাকা করছাড় পাবেন (প্রতিটি সন্তান বা সহনির্ভরশীল ব্যক্তির জন্য)।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১.২৮ কোটি টিআইএন (TIN) ধারী রয়েছেন, যার মধ্যে মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ ব্যক্তি প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেন।

নতুন কর ধাপ: বাতিল হলো ৫ শতাংশের স্ল্যাব

আয়কর কাঠামোতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সরকার সর্বনিম্ন ৫ শতাংশের ট্যাক্স স্ল্যাবটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্য ও উচ্চ আয়ের করদাতাদের করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ৩.৭৫ লাখ টাকার করমুক্ত সীমা পার হওয়ার পর, অবশিষ্ট আয়ের ওপর নিচের হারে কর আরোপ করা হবে:

  • পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১০ শতাংশ
  • পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১৫ শতাংশ
  • পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২০ শতাংশ
  • পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২৫ শতাংশ
  • অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর: ৩০ শতাংশ

বছরজুড়ে রিটার্ন জমা: থাকছে পুরস্কার ও জরিমানা

আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা পেরিয়ে বছরজুড়েই তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে রিটার্ন জমার সময়ের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পুরস্কার ও জরিমানার কাঠামো (Tiered System) প্রবর্তন করা হয়েছে:

  • প্রথম কোয়ার্টার (জুলাই-সেপ্টেম্বর): এই সময়ে রিটার্ন দিলে করদাতার প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম) রেয়াত (Rebate) বা ছাড় পাবেন।
  • দ্বিতীয় কোয়ার্টার (অক্টোবর-ডিসেম্বর): এটি সাধারণ সময়। কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত কর প্রযোজ্য হবে।
  • তৃতীয় কোয়ার্টার (জানুয়ারি-মার্চ): এই সময়ে রিটার্ন দিলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ অথবা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা গুনতে হবে।
  • চতুর্থ কোয়ার্টার (এপ্রিল-জুন): শেষ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা দিতে হবে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত আয় সংকোচন

এর আগে ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৫ লাখ টাকা করা হয়েছিল। এরপরের তিন বছর অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও এই সীমা অপরিবর্তিত ছিল।

গত তিন বছর ধরে দেশে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি চলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘায়িত এই মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে যারা করসীমার ঠিক ওপরে অবস্থান করছেন, তাদের জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ মিটিয়ে কর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।