অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, বিডিইকোনমি ডটনেট ঢাকা :
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের তাৎক্ষণিক অপসারণ এবং ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে টানা সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারীরা।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন আমানতকারী ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা মতিঝিলের দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— “অবৈধ” চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, করপোরেট লুটেরা এস. আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের সম্পূর্ণ বর্জন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি অ্যাকশনের বিচার।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকটি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল, যার পর এস. আলম গ্রুপ নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ফাঁকা করে দেয়। তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি বৈষম্যমুক্ত হলেও এখন এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম আত্মগোপনে চলে যান, অথচ এখন ব্যাংকটি আবার তার হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে। খুরশীদ আলমের মতো কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে কখনই মেনে নেব না।” একই সঙ্গে তারা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল দাবি করেন।
এর আগে গত ১ জুন (সোমবার) খুরশীদ আলমের নিয়োগের বিরুদ্ধে হওয়া অনুরূপ একটি বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা পরে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে পুনরায় সমবেত হয়ে পুলিশের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
সংকট সমাধানে আমানতকারী ফোরামের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অবিলম্বে পদত্যাগ।
২. ওমর ফারুক খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পুনর্বহাল।
৩. পূর্ববর্তী আর্থিক লুটপাটের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
৪. ব্যাংক রেজোলিউশন অ্যাক্টের ধারা ১৮(এ) বাতিল করা।
৫. এস. আলম গ্রুপের বাজেয়াপ্ত করা স্থানীয় সম্পদ ও মালিকানা শেয়ার লিকুইডেশন (পদ্ধতিগত বিক্রি) করে লুণ্ঠিত অর্থ সমন্বয় করা।
৬. ইসলামী ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে এস. আলম গ্রুপের প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি।
৭. ইসলামী ব্যাংকসহ সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত লুণ্ঠনের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তির আইনি বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।