নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ প্রাপ্তির শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আগের বকেয়া ঋণ পুরোপুরি শোধ না করেই ব্যবসায়ীরা নতুন ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। রফতানিমুখী এই চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল সংগ্রহের সময় বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়াতে এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
শর্ত শিথিল ও নতুন ঋণের সুযোগ নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব চামড়া ব্যবসায়ীর ঋণ পুনঃতফসিল করা আছে, তাদের জন্য নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের বকেয়ার নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মূলত আসন্ন ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়া কেনার প্রক্রিয়া সহজ করতেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের রফতানি খাতে চামড়া শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিল্পের কাঁচামালের একটি বড় অংশই সংগৃহীত হয় ঈদুল আজহার সময়। এ সময়ে ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা থাকা প্রয়োজন, যাতে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন হয়।
তৃণমূল পর্যায়ে অর্থায়ন বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন (Working Capital) ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনায় শুধু বড় ট্যানারি মালিকরাই নন, বরং গ্রাম ও পশুর হাটে কর্মরত তৃণমূল পর্যায়ের সংগ্রাহকদেরও ঋণ সুবিধার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চামড়া কেনার জন্য নতুন অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ডাউনপেমেন্ট সংক্রান্ত শর্ত ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী আগের পাওনা পরিশোধ না করেই নতুন তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্যাংকগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য চামড়া খাতে সুনির্দিষ্ট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই আগের বছরের চেয়ে কম হতে পারবে না। ব্যাংকগুলোকে তাদের লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে ঈদে চামড়া বাজারে সম্ভাব্য নগদ টাকার সংকট দূর হবে। সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে চামড়া কিনতে আগ্রহী হবেন, যা পরোক্ষভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।