শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্যাংক খাতের সংস্কারে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস এডিবি প্রতিনিধিদলের; গভর্নরের সাথে বৈঠক বন্ধ ও লোকসানি সরকারি কারখানা চালুতে ১৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে ভিসা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আকতার হোসেনের চুক্তি বাতিল রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশ্বমানের হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমতা ও অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ: বিল্‌স-এর কর্মশালায় ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬’ চূড়ান্তকরণ জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৩২ শতাংশে: খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে বড় স্বস্তি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ফার্মেসি ও লাইফ সায়েন্সেস ক্যারিয়ার ফেয়ার অনুষ্ঠিত: ২৫টি শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো এলপিপি

রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন: এপ্রিলের ২৯ দিনেই এলো ৩০০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা — দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের চিত্রটি বেশ আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালের এপ্রিলের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬০ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ১৫.১ শতাংশ

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) সামগ্রিক চিত্রে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট। গত জুলাই থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯.২১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪.৩৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৯.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার (৩৭৫ কোটি ডলার) যে রেকর্ড তৈরি হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা এপ্রিলেও বজায় রয়েছে। এর আগে উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের মধ্যে ছিল ২০২৫ সালের মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার।

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা তাদের রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংকট বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।