বুধবার ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার আবেদনের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকদের আসল আমানত ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা, ৬ মূল বেতনের সমান বোনাস পাচ্ছেন কর্মকর্তারা উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার কমিয়ে ৭% করল বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর ও তাফসীর বাংলাদেশ-চীন সুসম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তরুণ লেখকরা: লি শাওপেং

নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সকালে চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউএনবি) – ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সকালে চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়। এটি শাহবাগ থানা, টিএসসি মোড় এবং দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়।

অংশীজন ও উৎসবের আমেজ

জাঁকজমকপূর্ণ এই শোভাযাত্রায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাবি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এই উৎসবে যোগ দেন।

শোভাযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’-এর সুরে মুখরিত পরিবেশ।

ঐতিহ্যের ৫টি মোটিফ

এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের ধারায় ৫টি বড় মোটিফ প্রদর্শন করা হয়। এগুলো হলো— মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া; যা যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি মোটিফ বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।

নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণের আহ্বান উপাচার্যের

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি কেবল বাঙালির নয়, বরং বাংলাদেশের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত উৎসব।” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে অনেকেই নিজস্ব ঐতিহ্য ছেড়ে অন্য সংস্কৃতির অনুসরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ চর্চা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবেই আমরা অনেক সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পিছিয়ে থাকি। তাই আমাদের উচিত নিজেদের সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া।”

অন্যান্য কর্মসূচি

বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ, সংগীত বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়া আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল চারুকলার বকুলতলায় ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হবে।

উপাচার্য সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।