সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর ভুয়া ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতি, এডিবি’র সতর্কবার্তা<gwmw style="display:none;"></gwmw> ঢাকায় সাফা আঞ্চলিক কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪%

ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এ দুর্বল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, জবাবদিহিহীনভাবে মালিকানা হস্তান্তরের এই বিধান ‘চিহ্নিত লুটেরাদের’ পুনর্বাসনের একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ, যা ব্যাংকিং খাতকে আবারও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি এই উদ্বেগের কথা জানায়।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও নীতিগত দখল বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ব্যাংকের পতনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মালিকানায় ফেরার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, নতুন আইনের ১৮(ক) ধারা তা বাতিল করে দিয়েছে। এটি বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “সরকার যতই যুক্তি দিক না কেন, এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে সুরক্ষা দেবে। এটি ব্যাংকিং খাতে আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত না করে বরং তাদের পুরস্কৃত করছে। কর্তৃত্ববাদের পতনের মানেই যে ক্ষমতার অপব্যবহার শেষ হওয়া নয়, এই আইন তার বড় প্রমাণ।”

মালিকানা ফিরে পাওয়ার ‘যাদুকরী’ শর্ত সংকটাপন্ন ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পেতে মাত্র ৭.৫ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। বাকি ৯২.৫ শতাংশ অর্থ ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরে পরিশোধের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন ড. জামান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোন জাদুবলে খাতের শীর্ষ লুটেরারা রাতারাতি এত পবিত্র হয়ে গেলেন যে, নামমাত্র অর্থে তারা আবার শেয়ার ও সম্পদ ফিরে পাবেন? তারা কীভাবে নতুন মূলধন জোগান দেবেন বা আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেবেন? সরকারের কাছে এর কোনো সদুত্তর আছে কি?”

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ও গণমানুষের দায় স্বার্থের সংঘাতে জর্জরিত বাংলাদেশ ব্যাংক এই শর্তগুলো কতটা কার্যকরভাবে তদারকি করতে পারবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। টিআইবি মনে করে, শর্ত পূরণের নামে এই চক্র আবার নতুন করে ঋণ নেবে এবং চলমান খেলাপি ঋণের সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে আরও দেউলিয়া করে তুলবে। শেষ পর্যন্ত এই ঋণের বোঝা সাধারণ জনগণের ওপরই পড়বে।

পুনর্বিবেচনার আহ্বান টিআইবি বলেছে, নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই আইন তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে পাস হওয়া এই আইনটি একটি বিশেষ কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে বলে সংস্থাটি মনে করে। ব্যাংকিং খাতের গুণগত পরিবর্তনে এই আত্মঘাতী আইনটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।