মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের রায়: ৬০.২৬ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোটে সংস্কার প্রস্তাব পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে বড় জয় পেয়েছে সংস্কারপন্থীরা। দেশের ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিপক্ষ তথা ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ভোটের পরিসংখ্যান ও অংশগ্রহণ

২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ইসি সচিব জানান, এবারের গণভোটে মোট ভোটারের ৬০.২৬ শতাংশ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে এই ভোটগ্রহণ চলে।

কী ছিল সেই ঐতিহাসিক প্রশ্ন?

গণভোটের ব্যালটে নাগরিকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখা হয়েছিল:

“আপনি কি জুলাই ‘জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

জুলাই সনদের ৪টি মূল স্তম্ভ

এই গণভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর তাদের রায় দিয়েছেন:

  1. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে গঠন করা।
  2. দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। ১০০ সদস্যের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ থাকবে যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সদস্য নির্বাচন করা হবে। সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
  3. রাজনৈতিক ও বিচারবিভাগীয় সংস্কার: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হওয়া ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
  4. প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারগুলো বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনগণের এই বিপুল জনরায়ের ফলে এখন থেকে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় নতুন কাঠামো গঠনের পথ প্রশস্ত হলো।