রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির<gwmw style="display:none;"></gwmw> চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৩.৮৯ শতাংশে: আইএমইডি চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছাড়াল ১০.৭২ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকির মুখে ৩ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ইনবাউন্ড লেনদেনের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈশ্বিক ও জ্বালানি সংকটের মুখেও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে লড়াই করে যাচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত স্পেনের বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন, এটি অনন্য নজির: প্রতিমন্ত্রী অমিত<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আরও কমানোর পরিকল্পনা: প্রবীণদের দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে

ঢাকা: সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড (টিবিবি)-এর মাধ্যমে কম সুদের তহবিল ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এর মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে জাতীয় সঞ্চয়পত্র (এনএসসি)-এর ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চাইছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট পর্যালোচনা ফাইল থেকে জানা যায়, মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছেন।

এই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, অর্থ মন্ত্রণালয় জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে আগামী বছরের শুরুতে এই খাতে সর্বোচ্চ সুদের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য সঞ্চয়পত্র অন্যতম প্রধান অভ্যন্তরীণ উৎস হলেও এর তুলনামূলকভাবে উচ্চ সুদের হার সরকারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো কম সুদের টিবিবি-কে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎসে পরিণত করা।

সুদহার কমলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ সুদের হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে কয়েকটি স্কিমে ৪৭ থেকে ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমানোর পর এই হার প্রযোজ্য। মন্ত্রণালয় আগামী জানুয়ারিতে অতিরিক্ত ১ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলস্বরূপ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সঞ্চয়পত্র অনেক কম লাভজনক হবে।

অন্যদিকে, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের (টিবিবি) গড় সুদের হার ৯.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় সরকার সেখান থেকে কম খরচে ঋণ নিতে পারছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবরের নিলাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদ ৯.৫০ শতাংশ, ২ বছর মেয়াদি বন্ডের গড় সুদ ৯.৪৪ শতাংশ এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ ৯.৯০ শতাংশ।

নেট বিক্রি কমছে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার ধারাবাহিকভাবে কমানোর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সঞ্চয়পত্রের নেট বিক্রিতে, যা তীব্রভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নেট বিক্রি ঋণাত্মক (নেগেটিভ) ৬,০৬৩ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেট বিক্রি রেকর্ড ঋণাত্মক ২১,১২৪ কোটি টাকা ছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক তৌফিকুল ইসলাম খান, যিনি সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালকও, পূর্বাভাস দিয়েছেন যে সুদের হার কমানো অব্যাহত থাকলে সঞ্চয়পত্রের নেট বিক্রির এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, “এই সিদ্ধান্তটি বিশেষত প্রবীণ, অবসরপ্রাপ্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করবে, যারা নিরাপদ, নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল।”

এই জনগোষ্ঠী, যারা বিশেষভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প খুঁজছেন, তারা সরকারের ট্রেজারি ইনস্ট্রুমেন্টের দিকে চলমান নীতি পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বর্তমানে চারটি ধরনের সঞ্চয়পত্র, দুটি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, একটি ডাকজীবন বীমা, একটি প্রাইজবন্ড এবং প্রবাসীদের জন্য তিনটি বিশেষ বন্ডসহ মোট ১১টি সঞ্চয় স্কিম পরিচালনা করছে।