বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ: বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : চলতি বছর প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উচ্চপ্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ডলারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১১ কোটি ডলার কিনেছে। ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ (এমপিএ) পদ্ধতিতে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয় ।

ডলার ক্রয়ের পরিসংখ্যান

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের আধিক্য থাকায় বিনিময় হারে বড় ধরনের ওঠানামা রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

  • ডিসেম্বর মাসের হিসাব: শুধুমাত্র চলতি ডিসেম্বর মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৯২ কোটি ডলার বাজার থেকে কিনেছে ।
  • চলতি অর্থবছরের হিসাব: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.০৫ বিলিয়ন (৩০৫ কোটি) ডলারে ।

রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

প্রবাসী আয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে । গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৯৮ কোটি ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.০৩ শতাংশ ।

পুরো অর্থবছরের চিত্রে এই প্রবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট:

  • জুলাই থেকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: এ সময় দেশে এসেছে ১৫.৭৯ বিলিয়ন ডলার ।
  • জুলাই থেকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৪: গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৩.৫৪ বিলিয়ন ডলার ।
  • সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি: গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ১৬.১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে । উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৮৯ কোটি ডলার ।

প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণসমূহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন :

১. হুন্ডি বিরোধী কঠোরতা: অবৈধ পথে টাকা পাঠানো রোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ ।

২. প্রণোদনা প্রদান: রেমিট্যান্সের ওপর সরকারি ও ব্যাংক পর্যায়ের প্রণোদনার সঠিক বাস্তবায়ন।

৩. ব্যাংকিং চ্যানেলের আধুনিকায়ন: প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও দক্ষ করে তোলা।

বৈদেশিক মুদ্রার এই উচ্চপ্রবাহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে ।