মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ দ্রুত খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার : মাহদী আমিন

মৎস্য খাতে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, কক্সবাজারে পরিবেশবান্ধব ‘আইপিআরএস’ প্রযুক্তির উদ্বোধন

ঢাকা : বাংলাদেশে মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস সরকার তার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি হোটেলে ‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ইন-পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম (IPRS) নামে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তির উদ্বোধনের সময় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি জুরিস ভ্যান বোমেল এই প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশে কৃষি ও অ্যাকুয়াকালচার খাতে সহযোগিতা জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইপিআরএস: মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইপিআরএস প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন।

ইন-পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম (IPRS) হলো একটি উদ্ভাবনী এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাকুয়াকালচার পদ্ধতি, যা মাছ চাষে জল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ায়। প্রথাগত পদ্ধতির মতো এতে সম্পূর্ণ জল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। পরিবর্তে, পুকুরের মধ্যে জল ক্রমাগত সঞ্চালিত ও পরিশোধিত হয়, যার ফলে মাছ চাষের সর্বোত্তম অবস্থা বজায় থাকে। এই প্রযুক্তি মৎস্য মজুদের ঘনত্ব এবং সামগ্রিক জাতীয় অ্যাকুয়াকালচার উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে।

উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নতির সুবিধা যেন ক্ষুদ্র আকারের কৃষকরাও পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ মৎস্য খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আইপিআরএস প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে জোর দেন।

অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্ব

মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এবং খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এই খাত জাতীয় জিডিপি-তে প্রায় ২.৫৩% অবদান রেখেছে।
  • কৃষি জিডিপি-তে এর অবদান ছিল প্রায় ২২.২৬%
  • প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মাছ উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের স্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আইপিআরএস-এর মতো পরিবেশগতভাবে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারকে এই খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ, ডি হাসের এক্সপোর্ট ডিরেক্টর (এশিয়া) জর্ডি ড্রাইটেলার এবং লাইটক্যাসল পার্টনারস-এর প্রতিনিধিরা।