শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ:
কর্পোরেট বোর্ডে নারী পরিচালকদের শক্তিশালী অবস্থান, তবুও পিছিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জনতা ব্যাংকের ৯,৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৬৩ জনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা দুদকের রিজওয়ানা হাসান তথ্য, আসিফ নজরুল ক্রীড়া ও আদিলুর এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে  মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ, আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  চীনা উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের বৈঠক: বাংলাদেশে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ ব্যাংক রেজোলিউশন ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে: সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভ: স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই: তারেক রহমান

বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে ভারত, সীমান্তে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২ রুপিতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

বাংলাদেশের আমদানিকারকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ আমদানি স্থগিত রাখায় এই পেঁয়াজগুলো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সীমান্তে পেঁয়াজের দাম তলানিতে

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য প্রবেশ করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা)। ৫০ কেজির এক একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে।

বিপরীতে, মালদার স্থানীয় বাজারে একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ রুপিতে। শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে এই অস্বাভাবিক দরপতন চলছে।

প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মজুত, এখন লোকসান

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।

মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেন,

“বছরের এই সময়ে সাধারণত বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এই দিক বিবেচনা করে আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক, আবার কেউ তার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ মজুত করেছে।”

তিনি আরও জানান, এসব পেঁয়াজ ইন্দোর এবং নাসিক (মহারাষ্ট্র রাজ্য) থেকে আনা হয়েছে। এখন তা পচছে এবং বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে পেঁয়াজের দাম তো উঠবেই না, পরিবহনের তেল খরচও উঠবে না।

আরেক রপ্তানিকারী জাকিরুল ইসলাম বলেন, দু’মাস আগেও তিনি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতেন। এখন তার ট্রাকগুলোর পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং নামমাত্র মূল্যে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ক্ষতির মুখে হাজারো ব্যবসায়ী

মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা একটি নোটিশ জারি করে। সেই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এরপর থেকেই এই অবস্থা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারকদের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জ্বল সাহা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন:

“বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানি খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা একটি অকল্পনীয় লোকসান। যদি শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া না হয়, তাহলে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।”