মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ২০ দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত প্রত্যাহার ৩,২৪৫ কোটি টাকা ঢাকার বসুন্ধরায় সনির প্রথম অনুমোদিত ক্যামেরা সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি

দেশে প্রথমবারের মতো কম্পিটেন্সি-বেজড আরবি ভাষার কারিকুলাম প্রণয়ন করছে এনএসডিএ

ঢাকা, ১৮ আগস্ট (বিডি ইকোনমি)- আরবি ভাষায় দক্ষ জনশক্তির জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে থাকা সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কারিকুলাম প্রণয়ন করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসডিএর সম্মেলন কক্ষে ‘অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড (সিএস) ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট (সিএডি) প্রণয়ন পরবর্তী দিনব্যাপী ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

এ কারিকুলামের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে আরবি ভাষাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্মুক্ত হবে, যার মধ্যে ২২টি দেশে আরবি প্রধান ভাষা এবং ২৮টি দেশে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে প্রচলিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে একটি মানসম্মত ও অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকে মানসম্মত, স্বীকৃত ও কর্মসংস্থানমুখী করা প্রয়োজন। সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়নের অঙ্গিকারের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন ভাষার মানসম্মত কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাষা দক্ষতা এখন শুধু যোগাযোগের সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও ভাষা দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের আরবি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”

কর্মশালায় আরবি ভাষা শেখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ বিষয়বস্তু, শিখনফল ও মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কোর্স অ্যাক্রিডিটেশন ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্তকরণের পর এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় এনএসডিএ এরই মধ্যে ইংরেজি ও জাপানি ভাষার ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে আরবি ভাষার পাশাপাশি চীনা, কোরিয়ান ও ইতালিয়ান ভাষার ওপরও কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন খাঁন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষক মো. নুরুদ্দীন, মারকাজুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মহিউদ্দিন ফারুকী, কাতার দূতাবাসের সিনিয়র অনুবাদক হামেদ জামিল হোসাইন এবং জামিয়াতুল উস্তায শহিদুল্লাহ ফজলুল বারির আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক আলমগীর মুরতাজা।