শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক: ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ<gwmw style="display:none;"></gwmw> জ্বালানি খাতের বরাদ্দ বৈষম্য দূর ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ সানেমের<gwmw style="display:none;"></gwmw> প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়গুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড বসানো হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এসএমই খাত: শিল্পমন্ত্রী ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক আইএমএফের নতুন ঋণের শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় উদ্যোগ: প্রবাসীদের জন্য ‘কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ চালু, ওএমইউ ও অফশোর ব্যাংকিংয়ে গতি আনার লক্ষ্য পাঁচটি দেউলিয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আগে থেকেই আকাশছোঁয়া। তার ওপর সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেল আর এলপিজি গ্যাসের দাম। সাধারণ মানুষের সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার দুঃসংবাদ আসছে বিদ্যুৎ নিয়ে। পাইকারি দরের পর এবার গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কি ঘটছে আসলে? মঙ্গলবার (৫ মে) বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি ‘নেসকো’ গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। শুধু নেসকো নয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং অন্যান্য কোম্পানিগুলোও একই পথে হাঁটছে। বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সব কোম্পানির আবেদন জমা পড়ার পর শুরু হবে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এরপর হবে গণশুনানি। অর্থাৎ, খুব দ্রুতই আপনার মাসের বিদ্যুৎ বিলের অংকটা বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন এই দাম বৃদ্ধি? সরকারের যুক্তি হলো ‘ভর্তুকি’। বর্তমানে এক ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১২ টাকা, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে পাইকারি বিক্রি করা হয় মাত্র ৭ টাকায়। এই যে মাঝখানের গ্যাপ, সেখানে সরকারকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশাল লোকসান কমাতেই দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। যদিও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলেছিল দুই বছর দাম বাড়াবে না, কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন দাম বাড়ানোর সুপারিশ করছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

মানুষের দীর্ঘশ্বাস বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবরটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর উদ্বেগ এখন চরমে।

বেসরকারি চাকরিজীবী মিলি আক্তার আক্ষেপ করে বলছিলেন, “তেলের দাম বাড়ার পরদিন থেকেই সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। বাজারে গেলে এখন হাত খালি হয়ে ফেরে। এখন যদি আবার বিদ্যুতের বিল বাড়ে, তবে সংসার চালানোই দায় হবে।”

একই সুর সরকারি কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “মাসের নির্দিষ্ট বেতন দিয়ে কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চলে। বাসায় ঠিকমতো গ্যাস থাকে না বলে এলপিজি কিনি, সেটারও দাম বাড়তি। এখন বিদ্যুতের বিল বাড়লে আমরা যাবো কোথায়?”

বিশেষজ্ঞের চোখে ‘অবিচার’ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম মনে করেন, এই দাম বৃদ্ধির দায় সাধারণ মানুষের নয়। তাঁর মতে, গত সরকারের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি আর সিস্টেম লসের মাশুল এখন সাধারণ মানুষ দিচ্ছে। অনিয়ম বন্ধ না করে বারবার মানুষের পকেট থেকে টাকা নেওয়াটা এক ধরনের অবিচার।

বর্তমান পরিস্থিতি গেল ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তার ঠিক একদিন আগেই বাড়ানো হয়েছে ডিজেল, পেট্রোল আর অকটেনের দাম। এখন যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ে, তবে যাতায়াত থেকে শুরু করে কলকারখানার উৎপাদন খরচ—সবই বেড়ে যাবে। আর তার চূড়ান্ত বোঝাটা দিনশেষে চাপবে সাধারণ ক্রেতার কাঁধেই।

মধ্যবিত্তের জন্য সামনের দিনগুলো যে আরও কঠিন হতে চলেছে, বিদ্যুতের এই দাম বাড়ানোর তোড়জোড় তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।