শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখল বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩.১৭ বিলিয়ন (৩১৭ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৫.১ শতাংশ

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০২.২৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

বছর ও মাসভিত্তিক তুলনামূলক চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২.১৮ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে ৯৮৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪৫.১ শতাংশ বেশি আয় এসেছে। এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল এই অর্থবছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয়।

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) সাত মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহ:

  • জানুয়ারি: ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার
  • ডিসেম্বর: ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার (সর্বোচ্চ)
  • নভেম্বর: ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার
  • অক্টোবর: ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার
  • সেপ্টেম্বর: ২.৬৯ বিলিয়ন ডলার
  • আগস্ট: ২.৪২ বিলিয়ন ডলার
  • জুলাই: ২.৪৭ বিলিয়ন ডলার

অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রবাসীরা মোট ১৯.৪৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এই অংক ছিল ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সাত মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার বা ২১.৮ শতাংশ। উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরটি ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স নিয়ে শেষ হয়েছিল।

স্থিতিশীলতার পথে অর্থনীতি

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরছে। হুন্ডির বিরুদ্ধে কড়াকড়ি এবং প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করায় এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।