বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবল সংকটে ধুঁকছে ১৫৩ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন করা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ভোটের গাড়ির ‘জনমত বাক্সে’ প্রধান উপদেষ্টাকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মনের কথা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ চুক্তি: বিজিএমইএ-র প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও অভিনন্দন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এখন থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক’ আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং লেনদেনের সময়সূচী নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাচন উপলক্ষে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ৪ দিন বন্ধ বিশ্বমন্দা ও অভ্যন্তরীণ সংকটে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, আশার আলো দেখাচ্ছে জানুয়ারি বিটকয়েনের বড় ধস: এক সপ্তাহে ২৫% মূল্য হ্রাস, নেমেছে ৬৩ হাজার ডলারের নিচে

জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা

মতামত ও বিশ্লেষণ – জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশ্লেষক হোলম্যান ডব্লিউ জেনকিন্স জুনিয়র। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিশালতাকে বুঝতে সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

নির্গমনের বৈশ্বিক চিত্র ও রাজনীতি

নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল বৈশ্বিক জলবায়ু উপাত্তে (Climate Data) কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে না। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বড় ঘটনা বা সোভিয়েত শিল্পের পতনের ফলে নির্গমনের বার্ষিক হারে সামান্য তারতম্য হলেও, বায়ুমণ্ডলের সামগ্রিক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের (CO2) স্তরে তা কার্যত অদৃশ্য।

বিশ্লেষকের মতে, গত কয়েক দশকে চীনের শিল্পায়নই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কার্বন নির্গমনকারী ঘটনা, যা শিল্প বিপ্লবের পর থেকে চলে আসা একটি নিরবচ্ছিন্ন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অংশ মাত্র। ফলে ট্রাম্পের জীবাশ্ম জ্বালানি নীতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখানোটা বাস্তবসম্মত নয়।

‘হোয়াক্স’ বা ধোঁকাবাজি বিতর্ক

নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে যে, ট্রাম্প জলবায়ু বিজ্ঞানকে ‘ধোঁকাবাজি’ বলেছেন। তবে নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল মূলত ‘জলবায়ু লবি’ বা এর পেছনে থাকা বাণিজ্যিক স্বার্থের বিরুদ্ধে। ট্রাম্প এটিকে একটি ‘অর্থ উপার্জনের শিল্প’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। লেখক মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু নীতিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে এটি একটি রূঢ় বাস্তবতা।

গ্রিন এনার্জি ও জ্বালানি বাস্তবতা

অর্থনীতিবিদদের মতে, সবুজ শক্তি (Green Energy) ব্যবহার করলেই যে কার্বন নির্গমন কমে যাবে, এমন ধারণা ভুল। মানুষ সবসময় নতুন শক্তি প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং একই সাথে তাদের সামগ্রিক শক্তির বাজেটও বৃদ্ধি করছে। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • হাইড্রোকার্বন বা জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার সীমাহীন।
  • প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে সাথে এর উৎপাদন আরও সহজ হচ্ছে।
  • জলবায়ু সমস্যা সমাধানের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো (যেমন ১.৫ ডিগ্রি বা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অনেকটা অবাস্তব বা অলীক।

শক্তির প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জলবায়ু মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য যেকোনো রাজনীতিকই খুব সামান্য ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ, বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে না এবং তাদের ওপর জোরপূর্বক শক্তি প্রয়োগের কোনো পরিবেশ বর্তমানে নেই।

একটি বিদ্রূপাত্মক মিল

নিবন্ধের শেষে একটি মজার তথ্য দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এবং তার কট্টর সমালোচক ইলিনয় গভর্নর জে প্রিটজকার—উভয়ই সাম্প্রতিক সময়ে কার্বন-মুক্ত পারমাণবিক শক্তির (Nuclear Energy) প্রসারে কাজ করছেন। জলবায়ু ইতিহাসের পাতায় ট্রাম্পের নাম সম্ভবত এই পারমাণবিক শক্তির প্রসারের জন্যই টিকে থাকবে।