মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ দ্রুত খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার : মাহদী আমিন

খেলাপি ঋণ রোধে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ নিজে যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের করপোরেট ঋণ অনুমোদনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই তা সরাসরি যাচাই-বাছাই করবে—এমন একটি নীতিমালার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশনের বাণিজ্য সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গভর্নর এই পরিকল্পনার কথা জানান। সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

আরিফ হোসেন খান বলেন, “সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোই বড় করপোরেট ঋণ অনুমোদন করে থাকে। তবে এখন থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও তা যাচাই করার একটি প্রক্রিয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিষয়টি এখনও নীতিগত চিন্তার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, “যাচাইয়ের পদ্ধতি কেমন হবে, নীতিমালা কী হবে কিংবা বিশেষজ্ঞ জনবল নিয়োগ করা হবে কি না—সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাংকগুলোকে আগাম সতর্ক করতেই আমরা বিষয়টি আগেভাগে জানাচ্ছি।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আগেই বুঝতে পারে যে কোনো বিশেষ ঋণ ভবিষ্যতে খেলাপি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন প্রভাব বা স্বার্থের কারণে অনেক সময় তারা সেই ঋণ বিতরণে বাধ্য হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঋণ বিতরণের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা।

সভায় দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনও উদ্বেগের বিষয় এবং কর্মসংস্থানের সংকটও রয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ থাকায় তেল, গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে।

বর্তমানে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত একক গ্রাহককে ঋণ দিতে পারে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ সরাসরি (ফান্ডেড) ঋণ এবং ১০ শতাংশ ঋণপত্র বা গ্যারান্টির (নন-ফান্ডেড) মাধ্যমে দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই নিয়ম কিছুটা শিথিল থাকলেও, বিকল্প অর্থায়নকে উৎসাহিত করতে এই সীমাগুলো কঠোরভাবে কার্যকরের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।