মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ দ্রুত খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার : মাহদী আমিন

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংকট: ১০ এপ্রিলের পর বন্ধ হতে পারে ইস্টার্ন রিফাইনারি  

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: গত দেড় মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ থাকায় সাময়িক বন্ধ হওয়ার উপক্রমে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।  

জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে পাইপলাইনে থাকা তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে জমা থাকা ‘ডেডস্টক’ (অব্যবহৃত তেল) মিলিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত কোনোমতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।   সাধারণত এই শোধনাগারে দৈনিক গড়ে ৪,৫০০ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে বর্তমান সংকট কাটিয়ে মজুদ তেলের ব্যবহার দীর্ঘায়িত করতে উৎপাদন কমিয়ে ৩,৫০০ টনে আনা হয়েছে।  

৪ এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, রিফাইনারিতে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২,০০০ টনের নিচে নেমে এসেছে। এর বাইরে প্রায় ১০,০০০ টন ডেডস্টক এবং ৫,০০০ টন পাইপলাইনের তেল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাইপলাইন থেকে তেল বের করতে বিশেষ পাম্প ব্যবহার করে ট্যাংকারে স্থানান্তর করতে হবে। সব মিলিয়ে এই মজুদ দিয়ে মাত্র পাঁচ দিন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব।  

বিপিসির পদক্ষেপ:

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত ১ এপ্রিল ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য একটি সংস্থাকে ‘নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড’ (এনওএ) দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি সোমবারের মধ্যে এলসি (ঋণপত্র) খোলা সম্ভব হবে। যদি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছায়, তবে ডেডস্টক ব্যবহার করে আমরা এই সময়টুকু পার করতে পারব।”   এর আগে, গত ৩১ মার্চ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মালয়েশিয়া ভিত্তিক ‘আবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস’ থেকে ১ লাখ টন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে। এছাড়া সৌদি আরব থেকেও আরও ১ লাখ টন তেল আগামী ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।  

দেশব্যাপী সংকটের আশঙ্কা নেই :

শোধনাগারের এই নাজুক অবস্থা সত্ত্বেও দেশে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকটের কোনো ঝুঁকি নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, “ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাসহ আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে আমরা আগে থেকেই শোধিত তেলের আমদানির ওপর জোর দিয়েছি এবং শোধনাগারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছি।”  

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ (৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে ৬০,০০০ টন শোধিত তেলবাহী দুটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইন্দোনেশিয়া থেকেও আরও ৬০,০০০ টন শোধিত তেল আসার কথা। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এবং চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে জাহাজে করে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকায় জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।