সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪% বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করল বাংলাদেশ ব্যাংক আইডিআরএ’র নতুন সদস্য হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহি পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দেশে ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব আমিরাত প্রবাসী সিআইপি ও ব্যবসায়ীদের; ভিসা সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করল মোবাইল অপারেটর এয়ারটেল গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রাইভেট বিনিয়োগে ভাটা: ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছাড়াল ৪ লাখ কোটি টাকা ফল আমদানিতে এলসি মার্জিন শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক ইউরোপীয় বাজারে মন্দা: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৬.৪৩% জুলাই-আগস্টের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা চায় পোশাক খাত

কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪% বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ১৭ আগস্ট (বিডি ইকোনমি)- চলতি অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পলি্ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, যা আগে ছিল ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা’ ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৬০ হাজার কোটি টাকার মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০,৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯,৫০৫ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি কৃষি ঋণ কার্যক্রম মনিটরিং ও তদারকি জোরদার করতে একটি বিশেষ ‘ওয়েবভিত্তিক কৃষি ঋণ এমআইএস সফটওয়্যার’ চালু করা হয়েছে।

নীতিমালার মূল সংস্কার ও নতুন সুবিধাসমূহ:

এবারের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় বেশকিছু সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • জামানতমুক্ত ঋণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য স্থাবর সম্পত্তির জামানতের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলগত গ্যারান্টিতে ঋণ পাওয়া যাবে, যা নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করবে।
  • দলগত ঋণে শিথিলতা: শস্য, ফসল, মৎস্য ও গ্রামীণ আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ডে দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়ার পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং দলগত সদস্যসংখ্যার নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
  • নতুন খাতের সংযোজন: হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো ক্ষেত্রগুলো ঋণের আওতায় এসেছে। এছাড়া ব্লুবেরি ফল, শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা চাষ এবং ডিমের খোসা থেকে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • সহজ কৃষক যাচাইকরণ: প্রকৃত কৃষক শনাক্তে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণযোগ্য হবে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে।
  • কৃষি বিমা সুবিধা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও কৃষকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ফসল ও কৃষি বিমা চালুর সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, সময়োপযোগী এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।