শনিবার ১৬ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্যাংকিং খাতের সংকট নিরসন ছাড়া অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না: হোসেন জিল্লুর রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে এলসি জালিয়াতির অভিযোগ ২৬ পোশাক মালিকের: উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি টাকা ছাপানোর খবর নিছক ‘রূপকথা’, ভিত্তিহীন: অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে ‘চা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: চীনা কালচারাল কাউন্সিলর<gwmw style="display:none;"></gwmw> মাভাবিপ্রবির নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগ দিলেন ঢাবি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী ব্যাংক লুটেরাদের বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আইনজীবীদের স্মারকলিপি মে মাসের ১১ দিনেই এলো ১.৪৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধি ৫৬ শতাংশের বেশি ইইউ-এর ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ পরিপালনে বিজিএমইএ ও অ্যাওয়ার-এর ঐতিহাসিক চুক্তি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে এলসি জালিয়াতির অভিযোগ ২৬ পোশাক মালিকের: উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিরুদ্ধে এলসি জালিয়াতির অভিযোগ ২৬ পোশাক মালিকের: উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি ঢাকা :

প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-র নারায়ণগঞ্জ শাখায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, এলসি জালিয়াতি এবং গ্রাহকের অজান্তে ‘বেনামী ঋণ’ সৃষ্টির অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ২৬ জন রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা মালিক। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে ডয়েস ল্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

জালিয়াতির ধরণ ও অভিযোগ: লিখিত বক্তব্যে আরিফুর রহমান দাবি করেন, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকটির নারায়ণগঞ্জ শাখায় এসব অনিয়ম শুরু হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালয় ও তৎকালীন চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ভুয়া বিক্রয় চুক্তি এবং কাঁচামাল আমদানি ছাড়াই ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি (LC) খুলে অর্থ পাচার করেছেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তাদের বাজার দরের চেয়ে প্রতি ডলারে ১২-১৫ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে তাদের ওপর বিপুল আর্থিক দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গ্রাহকদের না জানিয়ে তাদের নামে ভুয়া ঋণ তৈরি করে উচ্চ হারে সুদ আদায় করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: নিট রিফ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিল মোহাম্মদ ইমরান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত বার্ষিক পরিদর্শন এবং অডিট পরিচালনা করে। এত বড় অনিয়ম তাদের নজর এড়িয়ে কীভাবে গেল?” তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিকার চেয়ে ২২টি চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

চাপে দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যু: সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রচণ্ড মানসিক ও আর্থিক চাপে দুই জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা গেছেন। টোটাল ফ্যাশনের এমডি মো. হাসিবউদ্দিন মিয়া এবং ওয়েস্ট অ্যাপারেলের এমডি ব্যাংকের হয়রানি ও চাপের মুখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে অভিযোগ করা হয়।

বর্তমান সংকট ও দাবি: বর্তমানে ২৩টি পোশাক কারখানার ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের বেতন ও জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নিম্নোক্ত দাবি জানান:

১. অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। ২. একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অডিট ফার্ম দ্বারা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কার্যক্রম অডিট করা। ৩. স্থগিত হওয়া ২৩টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় সচল করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা জানান, গত ৬ এপ্রিল তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা ন্যায্য আর্থিক দায় পরিশোধে রাজি থাকলেও, ভুয়া ঋণের বোঝা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব বলে উল্লেখ করেন।