নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ইকোনমি সিলেট :
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ‘চা’ এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং।
শনিবার (১৬ মে) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ‘চাইনিজ কর্নার’ আয়োজিত ‘চা ও বিশ্ব: নান্দনিক মিলনমেলা’ (Tea and the World: Aesthetic Meeting) শীর্ষক সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
লি শাওপেং বলেন, “চা কেবল একটি পানীয় নয়; এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় সংযোগের প্রতীক। চীনা সভ্যতায় চা সম্প্রীতি, ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং মানবিক সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করে।”

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রোভিসি অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অনুষদ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের টেকনিক্যাল সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই চীনা চা সংস্কৃতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর একটি মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন। তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চায়ের বিবর্তন তুলে ধরেন।
সেমিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একটি বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। যেখানে বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা ২০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। এসব শিল্পকর্মে শিল্পীদের চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং চীনা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় দিকগুলো ফুটে উঠেছে।

পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চাইনিজ কর্নারের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল হক। আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সমঝোতা বৃদ্ধি করা।