মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী ব্যাংক লুটেরাদের বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আইনজীবীদের স্মারকলিপি মে মাসের ১১ দিনেই এলো ১.৪৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, প্রবৃদ্ধি ৫৬ শতাংশের বেশি ইইউ-এর ‘ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট’ পরিপালনে বিজিএমইএ ও অ্যাওয়ার-এর ঐতিহাসিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে টপকে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ টিকে থাকতে ভ্যাট হ্রাস ও গ্যাস সংযোগের দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তরে বিজিএমইএ ও জিআইজেড-এর ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় সৌরশক্তি ও এলএনজিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের ভাতা নয়, জীবনযাত্রার সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’: কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের আর্থিক খাত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ বা ঋণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি)-এর উদ্বোধনী তহবিল উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আর্থিক খাতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বিশেষ করে বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক খবরদারি চলবে না। এটি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত।”

দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম দেশের উদ্যোক্তা পরিবেশে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে ‘বিএসআইসি’ চালু করেছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। ৪২৫ কোটি টাকার প্রাথমিক মূলধন নিয়ে গঠিত এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বিদেশি তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা।

মন্ত্রী আমির খসরু উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনই হবে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উন্নয়নের পরবর্তী ধাপের জন্য এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন যারা শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখবে। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের জন্য ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) কোড বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিএসআইসি-র গঠন ও লক্ষ্য ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল প্রদান করবে। গত ৫ বছরের নিট মুনাফার ১ শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এই তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড (Seed), লেট সিড এবং সিরিজ-এ রাউন্ডের বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে।

সিটি ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএসআইসি-র চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন জানান, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করলেও এর মাত্র ৭ শতাংশ এসেছে দেশীয় উৎস থেকে। তিনি বলেন, “বিএসআইসি কেবল একটি তহবিল নয়; এটি স্থানীয় আস্থার সাথে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সেতুবন্ধন। এটি শুধু প্রযুক্তি নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও (SME) অর্থায়ন করবে।”

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের ওয়েভমেকার পার্টনারস, ৫০০ গ্লোবাল, এডিবি ভেঞ্চারস এবং স্টার্জন ক্যাপিটালের মতো আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈশ্বিক মান নিশ্চিত করতে বি ক্যাপিটালের সাবেক জেনারেল পার্টনার সামি আহমেদকে বিএসআইসি বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগ কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।