মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধার ধীরগতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা: বেজিয়া সভাপতি সামাজিক সুরক্ষায় জাকাত: সেন্ট্রাল ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ লিজিং প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রমে প্রশাসক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ‘ন্যানো ঋণ’ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় ২৫ ল্যাপটপ দিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিদেশে বাংলাদেশি খেলাপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ব্যাংক টাকায় বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা: বাংলাদেশ ব্যাংক

সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আজ (বুধবার) চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি নাইনামিয়া’ (MT Nyneamia)। এর মধ্য দিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) পুনরায় পূর্ণোদ্যমে উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে।

ইআরএল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজ থেকে তেল খালাস প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী ৮ বা ৯ মে থেকে শোধনাগারটি পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে।

সংকট ও সমাধান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় গত মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নির্ধারিত সময়ে তেলের জাহাজ না পৌঁছানোয় শোধনাগারের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যায়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং এক পর্যায়ে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত জানান, “বুধবার দুপুরে জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে। খালাস প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই আমরা তেল পরিশোধন শুরু করব এবং পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরে যাব।”

রুট পরিবর্তন ও বাড়তি খরচ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও এই আমদানিতে সরকারকে বড় অঙ্কের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, জাহাজটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়াতে গত ২৪ এপ্রিল এটি ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।

বিকল্প রুট এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে:

  • চালানের মোট মূল্য: প্রায় ১০০.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
  • প্রতি ব্যারেলের দাম: ১২৬.২৮ ডলার।
  • অতিরিক্ত ব্যয়: লজিস্টিক পরিবর্তন এবং বর্তমান বাজারের কারণে এই একটি চালানেই সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে প্রভাব

দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ মেটায় ইস্টার্ন রিফাইনারি। এখানে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তৈরি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ চাহিদা সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে বিপিসি।

বিপিসি কর্মকর্তারা আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (এডিএনওসি) আরও ১ লাখ টন তেলের একটি চালান শিপিং কোম্পানির জটিলতায় বাতিল হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকেই ফুটিয়ে তোলে। তবে সৌদি আরবের এই চালানটি সফলভাবে আসায় আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।