মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

২১৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘জনকণ্ঠ ভবন’সহ গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’সহ এর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী দরদাতাদের আগামী ২৮ এপ্রিল দুপুর ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে। নিলাম চলাকালে সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আদালতের নিয়ম মেনেই দর উঠবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংক বা আদালত এর দায়ভার গ্রহণ করবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

ঋণের নেপথ্যে রাজনৈতিক সুপারিশ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ২০২১ সালে এই ঋণ ছাড় করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিশেষ সুপারিশে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের আগস্টে সালমান এফ রহমান জনতা ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি গ্লোব জনকণ্ঠের জন্য ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ মঞ্জুরের সুপারিশ করেন। সেখানে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে, যা পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিও লাভ করে।

নিষ্ক্রিয় গ্লোব জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, দৈনিক জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিসসহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এর মধ্যে বর্তমানে বেশির ভাগই বন্ধ বা নিষ্ক্রিয়। এমনকি গত মার্চ মাসে কয়েক দশকের পুরনো বাংলা দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা ও অনলাইন কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হাফিজুর রহমান জানান, শিল্প গ্রুপটি বর্তমানে বিশাল দেনার ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

জনতা ব্যাংকের বিশাল খেলাপি ঋণের বোঝা বেক্সিমকো, এস আলম, থার্মেক্স এবং অ্যাননটেক্স গ্রুপের মতো বড় গ্রাহকদের কাছে আটকে থাকা ঋণে বর্তমানে দিশেহারা জনতা ব্যাংক। গত বছরের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশই ‘মন্দ’ বা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “অর্থঋণ আদালত আইন অনুযায়ী আমরা প্রথমেই নিলামের মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করি। তবে বড় ঋণের ক্ষেত্রে নিলামে সবসময় কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলে না। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করা হয়।”

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বছর সব মিলিয়ে ৯০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে জনতা ব্যাংক।