সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বিনিয়োগে জোর সরকারের: শামা ওবায়েদ এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে সরবরাহ তলানিতে: গভীর হচ্ছে গ্যাস সংকট, বাসাবাড়িতে হাহাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভাগীয় মামলা ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুইসটেল’ হোটেল হচ্ছে না, ৮০০ কোটি টাকায় ভবনটি কিনছে পূবালী ব্যাংক ইডিএফ ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান বিডার নতুন কৌশলে সুফল: ১.৫ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার এফডিআই বাস্তবায়নে জুলাইয়ের প্রথম ২১ দিনে প্রবাসী আয় ২৩.৫% বেড়ে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার

দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ রপ্তানি বৃদ্ধিতে এই খাতের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে— ‘ভেটেরিনারিয়ানস: গার্ডিয়ানস অব ফুড অ্যান্ড হেলথ’

নিরাপদ খাদ্য ও ভেটেরিনারি পেশা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। ভেটেরিনারি পেশাজীবীরা মানুষের জন্য নিরাপদ আমিষ ও খাদ্য নিশ্চিত করতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় এই পেশাকে কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন মানুষের সচেতনতা বেড়েছে এবং দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, “প্রাণীরা তাদের কষ্ট মুখে বলতে পারে না, তাই তাদের চিকিৎসা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই খাতে যারা কাজ করছেন তারা অত্যন্ত মেধাবী ও যোগ্য।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি উদ্যোগ

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও এই খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে এখন ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ কৃষকদের মতো এই খাতের খামারিরাও সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা পাবেন।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা

অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ও ভেটেরিনারি সায়েন্সের মধ্যে বিদ্যমান পেশাগত জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সবাই সমানভাবে উপকৃত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভ্যাব) সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান এবং পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভ্যাব-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মো. আবদুর রহিম এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম. আরিফুল ইসলাম। আলোচনা সভার আগে প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করেন।