মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীদের সৃষ্টিশীল শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> মার্চে রেকর্ড ৩.৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার<gwmw style="display:none;"></gwmw> ২৪ ঘণ্টায় দেশব্যাপী ৮৭,৭০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ দিনে দেশে আসছে ১.৯২ লাখ টন এলএনজি নতুন নোটের সংকটে আবারও বাজারে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত টাকা বিপিজিএমইএ-তে ২০ বছর ধরে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ: প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সুষ্ঠ  নির্বাচন দাবি সদস্যদের মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় কার্গো বুকিং শুরু করল চীনা শিপিং জায়ান্ট ‘কসকো’ যুক্তরাষ্ট্রে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে ৫ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে

মার্চে রেকর্ড ৩.৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :  বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম ৩০ দিনেই দেশে এসেছে ৩.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ৩৪.০৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।

মার্চ মাসের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের (৩.২৭ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ১০.৭ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালের মার্চের এই রেকর্ডভাঙা পারফরম্যান্স চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

চলতি অর্থবছরে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬.০৭ বিলিয়ন ডলারে। যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের (২১.৭৬ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ১৯.৮ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অবৈধ ‘হুন্ডি’ পদ্ধতি নিরুৎসাহিত করতে এবং বৈধ পথে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

রিজার্ভের ঊর্ধ্বগতি বৈদেশিক মুদ্রার এই জোরালো প্রবাহের ফলে ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্রস (মোট) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪.০৫ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য যে, গত ১৬ মার্চ গ্রস রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা মাস শেষে সামান্য সমন্বিত হয়েছে।

রমজান ও ঈদুল ফিতরের প্রভাব রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ মাসের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই প্রবাসীরা ২.২০ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৭ শতাংশ বেশি। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসবের খরচ মেটাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত এই সময়ে বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি গতিশীলতা তৈরি করে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বাভাস অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে মোট রেমিট্যান্স পূর্বের সকল বার্ষিক রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এটি টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের (লেনদেনের ভারসাম্য) ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।