শনিবার ২০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
পাচার আশঙ্কার মাঝেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১% বাড়ল আইবিএফবি: প্রস্তাবিত অর্থবছর ২৭-এর বাজেট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত রূপরেখা পাঁচ দশকের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আইসিএবি’র কফি টেবিল বুক ‘লেগ্যাসি ইন মোশন’ এর মোড়ক উন্মোচন প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: সেমিনারে বক্তারা গ্রিন ট্রানজিশনে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন রডের দাম বাড়তে পারে ১২ হাজার টাকা: বিএসএমএ ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আইইবি প্রজেক্ট শোকেসিংয়ে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ডুবোমিনি’ প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ: ফিচ রেটিংস

সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও অর্ধেক কারখানায় মেলেনি ঈদ বোনাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রায় অর্ধেক শিল্পকারখানা এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। এছাড়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ কারখানায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখনো বকেয়া রয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে গত ৯ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস দেওয়ার জন্য মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত এই সময়সীমা অধিকাংশ মালিকই অনুসরণ করেননি।

শিল্প পুলিশের তদারকিতে থাকা ১০ হাজার ১০০টি কারখানার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২ হাজার ৫৪৪টি (২৫ শতাংশ) কারখানা এখনো গত মাসের বেতন দেয়নি। এছাড়া ৫ হাজার ৭টি কারখানা (৪৫.৫৭ শতাংশ) এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সরকার, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই বেতন-ভাতা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করেছিল। এত সব উদ্যোগের পরও বকেয়া আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে দেখা গেছে, যা প্রতিবছর ঈদের আগে এক পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন অভিযোগ করেছেন যে, কিছু মালিক ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অর্থ পরিশোধে দেরি করছেন। তিনি বলেন, “মালিকদের আশঙ্কা, আগে বেতন-বোনাস দিয়ে দিলে শ্রমিকরা ছুটির আগে চলতি মার্চ মাসের বেতনের একটি অংশ দাবি করতে পারে।”

গাজীপুরের এইচডিএফ অ্যাপারেলসের শতাধিক শ্রমিকের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, কারণ কারখানা মালিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় অস্থিরতা এড়াতে বিকেএমইএ (BKMEA) নেতারা ৩০ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

অবশ্য বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চলে ব্যাংক খোলা থাকায় এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ কারখানা বকেয়া পরিশোধ করে ছুটি দিতে পারবে।

বিজিএমইএ-ভুক্ত (BGMEA) কারখানাগুলোর চিত্র কিছুটা ভালো। তাদের ২ হাজার ১২৭টি সচল কারখানার মধ্যে মাত্র ৩৭টি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৭৬টি ঈদ বোনাস দেওয়া বাকি রেখেছে। ইতিমধ্যে ৪৭৮টি কারখানা মার্চ মাসের অগ্রিম বেতনও দিয়ে দিয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কোনো কারখানা সমস্যায় পড়লে তা সমাধানে উদ্যোগ নেবেন। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে তাদের ৩৫ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। বুধবার ৪৫ শতাংশ এবং বাকি কারখানাগুলো বৃহস্পতিবার ছুটি দেবে।