রবিবার ২১ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
পাচার আশঙ্কার মাঝেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১% বাড়ল আইবিএফবি: প্রস্তাবিত অর্থবছর ২৭-এর বাজেট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত রূপরেখা পাঁচ দশকের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আইসিএবি’র কফি টেবিল বুক ‘লেগ্যাসি ইন মোশন’ এর মোড়ক উন্মোচন প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: সেমিনারে বক্তারা গ্রিন ট্রানজিশনে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন রডের দাম বাড়তে পারে ১২ হাজার টাকা: বিএসএমএ ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আইইবি প্রজেক্ট শোকেসিংয়ে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ডুবোমিনি’ প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ: ফিচ রেটিংস

কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হয়ে কাজ করবে না ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL) এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল বা পরিবারের প্রভাবমুক্ত হয়ে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, চারজন পরিচালনা পর্ষদ সদস্য এবং শীর্ষ ১০ নির্বাহীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একসময় অত্যন্ত শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে সুশাসনের অভাবে ব্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তবে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং এর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিষয়টি এই বৈঠকে আলোচিত হয়নি বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

এস আলম গ্রুপের প্রভাব ও ঋণের চিত্র: দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আটটি ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, যার মধ্যে চারটি ছিল তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। এই চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রুপটি প্রায় ১.৯০ লাখ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে সরিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্যমতে, এর মধ্যে ১.০৫ লাখ কোটি টাকাই নেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক থেকে। জালিয়াতি ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৫ সালের আর্থিক চিত্র: নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আমানত সংগ্রহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১.৮৩ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং খাতেই আমানত বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি বড় সাফল্য দেখিয়েছে। গত এক বছরে ব্যাংকটি ৭৬ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। এছাড়া একই সময়ে ব্যাংকটির আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬০ হাজার কোটি ও ৩২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটিতে, যার মধ্যে গত এক বছরেই যুক্ত হয়েছেন ৫০ লাখ নতুন গ্রাহক।

তবে খেলাপি ঋণের (NPL) উচ্চহার এখনো ব্যাংকটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ১.০৬ লাখ কোটি টাকা (মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ)। তবে শেষ প্রান্তিকে ১৪,১৫৯ কোটি টাকা আদায়ের ফলে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২,১১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪৭ শতাংশ।