রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
তুরস্ক ও সৌদি আরবের ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি চুক্তি: ‘কপ-৩১’ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হবে দ্বিতীয় ধাপ রাজপরিবারে নতুন সংকট: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার রাজা চার্লসের জন্য বড় পরীক্ষা সংসদ বসছে ১২ মার্চ, নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ কোনো তৃতীয় পক্ষ ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না: চীনের রাষ্ট্রদূত বিমান চলাচল খাতে ইতিহাস গড়ল সৌদিয়া গ্রুপ: একযোগে ১,০০০ স্নাতক পেশাজীবীর অন্তর্ভুক্তি সংকটে অর্থনীতি: উত্তরণে নতুন সরকারকে কৌশলগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের রিজার্ভ বাড়াতে ৮ ব্যাংক থেকে ১২৩ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

তুরস্ক ও সৌদি আরবের ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি চুক্তি: ‘কপ-৩১’ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হবে দ্বিতীয় ধাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ইস্তাম্বুল: তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট (৫,০০০ মেগাওয়াট) নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিশাল চুক্তিটি চলতি বছরের শেষদিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’ (COP31)-এ স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্বালানি কোম্পানি ‘আকওয়া পাওয়ার’ (Acwa Power)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুনায়িয়ান আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নভেম্বরে তুরস্কের আন্টালিয়া শহরে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে ৩ গিগাওয়াট সক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্টোরেজ প্রকল্পের জন্য এই চুক্তি সম্পন্ন হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহে তুরস্কের সিভাস ও কারামান প্রদেশে ২ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রথম ধাপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • মোট সক্ষমতা: ৫ গিগাওয়াট (প্রথম ধাপ ২ গিগাওয়াট, দ্বিতীয় ধাপ ৩ গিগাওয়াট)।
  • প্রকৃতি: দ্বিতীয় ধাপে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং এনার্জি স্টোরেজের সংমিশ্রণ থাকবে।
  • বিনিয়োগ: ৫ গিগাওয়াট কাঠামোর আওতায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
  • সময়সীমা: ২ গিগাওয়াট প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আগামী বছর শুরু হবে এবং ২০২৮ সালের শুরুর দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তুরস্কের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা ও অংশীদারিত্ব

আবুনায়িয়ান তুরস্কের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলের প্রশংসা করে একে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে অভিহিত করেছেন। তুরস্ক ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের মোট সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১২০ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতি বছর দেশটিকে প্রায় ৯ গিগাওয়াট নতুন সক্ষমতা যোগ করতে হবে।

আবুনায়িয়ান বলেন, “কপ-৩১ সম্মেলনের মতো বিশাল মঞ্চে তুরস্ক ও সৌদি আরবের এই অংশীদারিত্ব পুরো বিশ্বের কাছে একটি বড় উদাহরণ হবে। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, তা বাস্তবায়ন করছি।”

স্থানীয় কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আকওয়া পাওয়ারের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো তুরস্কের বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি এই প্রকল্পে তুর্কি ঠিকাদারদের সম্পৃক্ত করা হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়াও আকওয়া পাওয়ার তুরস্কে গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ (desalination) প্রক্রিয়ার সুযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। আবুনায়িয়ান মনে করেন, ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য গ্রিন হাইড্রোজেনই হবে জ্বালানির প্রধান উৎস।

কপ-৩১ (COP31) এর গুরুত্ব

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ সম্মেলনে প্রায় ২০০টি দেশ অংশ নেবে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই সম্মেলনে আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকবে।