নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) জোয়ার বইছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে।
রেকর্ডের পথে প্রবাসী আয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭.৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে ২২.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়। ইতিহাসের সর্বোচ্চ তিনটি মাসিক আয় হলো: ১. ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার (মার্চ ২০২৫ – ঈদুল ফিতর কেন্দ্রিক) ২. ৩.২২ বিলিয়ন ডলার (ডিসেম্বর ২০২৫) ৩. ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার (জানুয়ারি ২০২৬)
রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব
রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স?
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা এই বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ দেখছেন:
- রমজানের প্রস্তুতি: রমজান ও আসন্ন ঈদে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।
- ব্যাংকিং খাতে আস্থা: ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে। একইসঙ্গে হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমে আসায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেড়েছে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে রিজার্ভকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।