নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ সামাল দিতে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে গত ছয় মাসে মোট ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ১৫টি ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে আরও ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হস্তক্ষেপের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৭৮ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম৬ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.১৮ বিলিয়ন ডলারে।
জানুয়ারিতেই কেনা হয়েছে ৬১ কোটি ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ অনেক বেশি। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই মাস থেকে ডলার কেনার এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুখপাত্র আরও জানান, কেবল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম আট দিনেই ৬১ কোটি ৭০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার।
ধাপে ধাপে ডলার ক্রয় ও বিনিময় হার
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্রয়ের পরিমাণের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারও কিছুটা বেড়েছে:
| তারিখ | ক্রয়ের পরিমাণ | প্রতি ডলারের দর |
| ১৩ জুলাই, ২০২৫ | ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার | ১২১.৫০ টাকা |
| ১৪ আগস্ট, ২০২৫ | ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার | ১২১.৫০ টাকা |
| ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার | ১২১.৭৫ টাকা |
| ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ | ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার | ১২২.২৯ টাকা |
| ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার | ১২২.৩০ টাকা |
| ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার | ১২২.৩০ টাকা |
বাজার পরিস্থিতি ও রিজার্ভ পুনর্গঠন
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং আমদানির চাপ তুলনামূলক কমে আসায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্বৃত্ত ডলার কিনে নেওয়ার ফলে একদিকে যেমন রপ্তানিকারকরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে গত কয়েক বছরের চাপের মুখে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারে যেন কোনো আকস্মিক বা চরম অস্থিরতা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা বাজার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিলাম পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।