বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমলেও নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে প্রথম প্রান্তিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ৫ গুণ বেড়ে ১৪৩.৫৪ কোটি টাকায় উন্নীত, ১ অক্টোবর থেকে মিলবে নতুন সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফল ২০২৬ সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকে মাসব্যাপী সাইবার সিকিউরিটি সচেতনতা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ইসলামী ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত আয় ও বাড়তি জরিমানা নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন সুযোগ দিল বিএসইসি বিশ্ব হৃদরোগ দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সচেতনতামূলক সভা ও রেলী ব্রোকারদের জন্য অভিন্ন ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চান বিএসইসি চেয়ারম্যান: পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ১৭,৩৩২ বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন আইপিএফ তহবিলের ক্ষতিপূরণ

১৩তম জাতীয় নির্বাচন: ৪২টি দলের ভরাডুবি, সংসদে প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৯ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :সদ্য সমাপ্ত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দলই কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট দলগুলোর শোচনীয় পরাজয় হয়েছে এবং মাত্র ৯টি দল আগামী সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি আসনের ফল বিভিন্ন কারণে আটকে আছে, একটিতে ভোট স্থগিত এবং দুটি আসন আইনি জটিলতায় রয়েছে।

বড় জয় বিএনপির, শক্ত অবস্থানে জামায়াত

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে সর্বোচ্চ ২০৯টি আসন পেয়ে বিশাল জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এগারো দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়েছে।

এ ছাড়া সংসদে একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন ৭ জন।

শতাধিক প্রার্থী দিয়েও ‘শূন্য’ ৪২ দল

নির্বাচনে অনেক রাজনৈতিক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আসন ছাড়াই ফিরতে হয়েছে তাদের। আসন না পাওয়া বড় দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), এবং গণফোরাম।

এ ছাড়া তালিকায় আরও রয়েছে:

  • ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, এবং ইসলামী ঐক্যজোট।
  • জাকির পার্টি, সমাজতান্ত্রিক পার্টি অফ বাংলাদেশ (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
  • বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, এবং এনডিএম।
  • বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটসহ আরও বেশ কিছু নতুন ও ছোট দল।

প্রার্থীদের পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে ২৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৯২ জন এবং নারী প্রার্থী ছিলেন ৬৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ২৫৩ জন পুরুষ এবং ২০ জন নারী প্রার্থী লড়াই করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় জোটগুলোর মেরুকরণের কারণে ছোট দলগুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে ৪২টি দলকে শূন্য হাতে ফিরতে হলো।