মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণে প্রথমবারের মতো সীমা বেঁধে দিল আইএমএফ, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার

ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণগ্রহণে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সম্প্রতি আইএমএফ তাদের ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে। এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয় চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি হিসেবে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন ও ছাড়ের পর। নতুন এই শর্ত পূরণ করতে পারলেই বাংলাদেশ ভবিষ্যতের ঋণ কিস্তি পাবে।

রিপোর্টে বৈদেশিক ঋণের জন্য ত্রৈমাসিক সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে সর্বোচ্চ ১.৯১ বিলিয়ন ডলার, ছয় মাসে ৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার, নয় মাসে ৪.৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং পুরো অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার সীমা রাখা হয়েছে।

এই ঋণসীমা আইএমএফের ২০২৩ সালে অনুমোদিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের মূল প্রোগ্রামের অংশ ছিল না। তবে চলতি বছরের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের সময় অতিরিক্ত ৮০০ মিলিয়ন ডলার যোগ করে প্রোগ্রামের সময়সীমা আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এ প্রোগ্রামের আওতায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএমএফের সর্বশেষ ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (DSA) অনুযায়ী এই সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই বিশ্লেষণে পরপর দুই অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশকে ‘মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আগে ‘স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ’ ছিল।

ডিএসএ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ-রপ্তানি অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২.৭ শতাংশে, যেখানে পূর্বাভাস ছিল ১১৬-১১৮ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ-রাজস্ব অনুপাতও বেড়েছে, যা নতুন ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, বৈদেশিক ঋণের এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ ছিল পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া মেগা প্রকল্প ও কোভিড-১৯ ব্যয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ তিনগুণের বেশি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.০২ বিলিয়ন ডলারে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ঋণ নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।