সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর ভুয়া ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতি, এডিবি’র সতর্কবার্তা<gwmw style="display:none;"></gwmw> ঢাকায় সাফা আঞ্চলিক কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪%

পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ: আমানতকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ পেমেন্ট স্কিম চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা: পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়ায় আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ পেমেন্ট স্কিম তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হতে যাচ্ছে, সেগুলোর মোট আমানত ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী:২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত: বীমার আওতায় দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। ২ লাখ টাকার বেশি আমানত: একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে।ফেরত দেওয়া আমানতের ওপর ৪ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যেতে পারে, তবে বিদ্যমান সব আমানত স্কিম বাতিল হয়ে যাবে। একজন গ্রাহকের একাধিক ব্যাংকে হিসাব থাকলেও তা একটি হিসেবে গণ্য হবে এবং বীমা সীমা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকাই থাকবে।

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা নগদ অর্থের পরিবর্তে নতুন ব্যাংকের শেয়ার পেতে পারেন। ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধের শর্তে কোনো পরিবর্তন হবে না, তাদের আগের নিয়মেই কিস্তি চালিয়ে যেতে হবে।

নতুন একীভূত ব্যাংকটির সম্পদ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার দেবে, ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ফান্ড থেকে, এবং ৫ হাজার কোটি টাকা দেবে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা।

পাঁচটি ব্যাংকই বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। তবে একীভূতকরণের পর এগুলোর তালিকাভুক্তি বাতিল করা হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী নন, তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক বিকল্প ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

একীভূতকরণের ঘোষণার পর থেকেই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এই পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম তাদের ফেস ভ্যালু (১০ টাকা) এর অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র এক ডজনের মতো ব্যাংকের শেয়ার ১০ টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) বদলে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এই প্রশাসকরা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন এবং প্রয়োজনে নির্বাহী পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখবেন। প্রশাসকদের অবশ্যই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে দক্ষ হতে হবে অথবা এ কাজে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের অনুমতি থাকতে হবে।