বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

৫ ব্যাংককে ‘সমস্যাগ্রস্ত’ করার দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চায় সরকার

ঢাকা: একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংককে (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক-এসআইবিএল, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক) সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চায় সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত ২ নভেম্বর একই মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই ব্যাংকগুলোকে সমস্যাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী মালিক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং খেলাপি ঋণ গ্রাহকদের চিহ্নিত করে সার্বিক অব্যবস্থাপনার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, এই পাঁচ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগ ও সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ: অর্থ বিভাগের চিঠিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানায়।

এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক গতকাল সচিবালয়ে জানান, “ব্যাংকগুলোর অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা শিগগির বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠাব।”

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে চিঠি পেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন ব্যাংকের কাঠামো ও দায়:পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে দেশের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে গঠিত হচ্ছে। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার আমানতকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেককে এই নতুন ব্যাংকের চেয়ারপারসন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভয়াবহভাবে ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশই খেলাপি।

খেলাপি ঋণের চিত্র এবং মালিকানার পটভূমি:ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ, এসআইবিএলের ৬২.৩০ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৮.২০ শতাংশ।

দেশজুড়ে এই ব্যাংকগুলোর মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চারটি ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এসআইবিএল, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক) চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

কর্মকর্তা ও আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ-বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকটি পরিচালিত হবে বেসরকারিভাবে। কর্মীদের বেতন এবং আমানতকারীদের মুনাফা হবে বাজারভিত্তিক।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, “পাঁচ ব্যাংকে যে জনবল আছে, তারা সবাই থাকবে। কারও চাকরি যাবে না।” ভবিষ্যতে একীভূত ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলে চাহিদা অনুযায়ী জনবল সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।