বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান সিইসি’র ভোট পর্যবেক্ষণে ঢাকায় ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক ২০৩০-এ চাঁদে মানুষ পাঠানোর পথে চীন: লং মার্চ-১০ রকেটের সফল পরীক্ষা গণমাধ্যমকে অপতথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান ইসি সচিবের চীনে মূল্যস্ফীতিতে স্থবিরতা: জানুয়ারিতেও অপরিবর্তিতভোক্তা সূচক, কমেছে উৎপাদন ব্যয় ঢাকার পানি দূষণ রোধে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন যমুনা সেতু দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ জনবল সংকটে ধুঁকছে ১৫৩ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন করা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা

২০৩০-এ চাঁদে মানুষ পাঠানোর পথে চীন: লং মার্চ-১০ রকেটের সফল পরীক্ষা

হাইন্যান: ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। আজ বুধবার দেশটির দক্ষিণ দ্বীপ প্রদেশ হাইন্যানের ওয়েনচাং স্পেস লঞ্চ সাইট থেকে ‘লং মার্চ-১০’ ক্যারিয়ার রকেটের নিম্ন-উচ্চতা প্রদর্শন এবং ভেরিফিকেশন ফ্লাইট টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চীন ম্যানড স্পেস এজেন্সি (CMSA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘লং মার্চ-১০’ ও ‘মেংজু’ মহাকাশযানের সফল পরীক্ষা

এই পরীক্ষার মাধ্যমে চীনের নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান ‘মেংজু’ (Mengzhou) এবং ‘লং মার্চ-১০’ রকেটের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার মূল আকর্ষণ ছিল ‘ম্যাক্সিমাম ডাইনামিক প্রেসার অ্যাবোর্ট টেস্ট’। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো জরুরি অবস্থা তৈরি হলে নভোচারীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে সক্ষম।

পরীক্ষার মূল পর্যায়গুলো:

  • উৎক্ষেপণ: রকেটটি মেংজু মহাকাশযান নিয়ে সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
  • বিচ্ছিন্নকরণ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতায় মহাকাশযানটি রকেট থেকে আলাদা হয় এবং এর সার্ভিস মডিউল ও রিটার্ন ক্যাপসুল পৃথক করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
  • নিরাপদ অবতরণ: ৮ কিলোমিটার উচ্চতায় মহাকাশযানটির তিনটি বিশালাকার প্যারাশুট (মোট ২,৪০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে) উন্মুক্ত হয় এবং নির্ধারিত সমুদ্র এলাকায় সফলভাবে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ বা অবতরণ করে।

এই অভিযানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট: ‘লং মার্চ-১০’ বর্তমানে চীনের বৃহত্তম রকেট, যা প্রায় ৯০ মিটার লম্বা এবং ২,৭০০ টন থ্রাস্ট বা ধাক্কা তৈরি করতে সক্ষম। এটিই একমাত্র রকেট যা নভোচারী এবং চন্দ্রযানকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে পারবে। ২. রকেট পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি: প্রথমবারের মতো এই রকেটের কোর স্টেজের জন্য সমুদ্রভিত্তিক ‘নেট-রিকভারি মোড’ পরীক্ষা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রকেট পুনরায় ব্যবহারের পথ সুগম করবে। ৩. সমন্বিত সুরক্ষা ব্যবস্থা: শেনজু মহাকাশযানের তুলনায় মেংজু মহাকাশযানের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত। এর নিজস্ব ‘এস্কেপ টাওয়ার’ রয়েছে যা রকেট ব্যর্থ হলে দ্রুত নভোচারীদের সরিয়ে নিতে পারে। ৪. প্রথম সমুদ্রভিত্তিক উদ্ধার: এই প্রথম চীন সমুদ্র থেকে নভোচারীবাহী ক্যাপসুল উদ্ধারের মহড়া সম্পন্ন করল, যা ভবিষ্যতে চন্দ্র অভিযানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

চাঁদের পথে নতুন মাইলফলক

ওয়েনচাং স্পেস লঞ্চ সাইটের প্রধান প্রকৌশলী ঝং ওয়েন’আন গ্লোবাল টাইমসকে জানান, এই অভিযানে নভোচারীদের জন্য বিশেষ স্পেসসুট এবং মানুষের আদলে তৈরি ডামিও পাঠানো হয়েছিল তথ্য সংগ্রহের জন্য। এই সফল পরীক্ষাটি চীনের চন্দ্র অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর গৌরব অর্জন করবে।