সোমবার ৬ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৪.০৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান সিএমএসএমই ও কৃষি খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ট্রাম্পের জন্য এক ‘জিততে না পারা’ মরণফাঁদ? অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংকট: ১০ এপ্রিলের পর বন্ধ হতে পারে ইস্টার্ন রিফাইনারি  <gwmw style="display:none;"></gwmw> শিল্প রক্ষায় শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ‘জটিল’ ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিকেএমইএ<gwmw style="display:none;"></gwmw> মার্চে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স; ২.৬৪ বিলিয়নই এসেছে বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রোধে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় ঋণ নিজে যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display: none; background-color: transparent;"></gwmw> মার্চে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে ১৯.৭৮ শতাংশ বড় ধস

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলার করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার দ্বিগুণ করে ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদল ব্যবসা পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট’ বা একক গ্রাহকের ঋণসীমা বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে (Single Digit) রাখা এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিধিমালা শিথিল করারও দাবি জানান তারা।

গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া এক লিখিত প্রস্তাবে এফবিসিসিআই উল্লেখ করে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফলে শিল্প কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জ্বালানি সরবরাহ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাও নিম্নমুখী চাপের মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়।

বেসরকারি খাতের মূল সুপারিশসমূহ:

  • ব্যাংকিং খাতের সংস্কার: ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে এফবিসিসিআই। পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংক একীভূতকরণের সময় আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ডলার ও এলসি সহায়তা: উৎপাদন ও বাণিজ্য সচল রাখতে মার্কিন ডলারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, স্থিতিশীল বিনিময় হার এবং এলসি (LC) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়েছে।
  • ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ধুঁকতে থাকা শিল্পগুলোর জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা বিদ্যমান ৩ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, ডেডিকেটেড হেল্পডেস্ক এবং জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • গ্রিন ফাইন্যান্সিং: জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্বল্প সুদে ঋণের সুপারিশ করা হয়েছে।
  • প্রশাসনিক তদারকি: শিল্প খাতের ব্যাংকিং সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

ব্যবসায়ী নেতারা বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখতে সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ কমানোর অনুরোধ জানান। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান প্রণোদনা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।