শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

মার্চে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে ১৯.৭৮ শতাংশ বড় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংকটের প্রভাবে গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১৯.৭৮ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে বাংলাদেশ ৪২০ মিলিয়ন কেজি পণ্য রপ্তানি করেছে, যার আর্থিক মূল্য ৩.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই আয় ছিল ৪.২৩ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানিকারকরা এই ধসের পেছনে মূলত কর্মদিবস কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে গত মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন উৎপাদন ও বন্দর কার্যক্রম সীমিত ছিল, যার ফলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোতে চাহিদার ব্যাপক ঘাটতি।

ব্যবসায়ীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ (retaliatory tariffs) আরোপের ফলে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ কমে গেছে। এর প্রভাবে ইউরোপীয় বাজারেও সংকট তৈরি হয়েছে; কারণ চীনা রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক এড়াতে ইউরোপের বাজারে অনেক কম দামে পণ্য সরবরাহ করছে। ফলে বাংলাদেশি পণ্য সেখানে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে টানা মন্দা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও এরপর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই আয় কমছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় ছিল ৩.৫০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৫০ শতাংশ কম ছিল।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। কিন্তু গত আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত মাস ধরে এই খাতের রপ্তানি নিম্নমুখী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক শিল্প এখন ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশোধমূলক শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ক্রয়াদেশ ক্রমাগত কমছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।”

মোহাম্মদ হাতেম আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে ডিজেল ও জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনবিআর মূলত কাস্টমস ছাড়পত্রের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক তথ্য তৈরি করেছে। তবে ইপিবি এখনো তাদের মাসিক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।