বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
<gwmw style="display:none;"></gwmw> তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের ৯ দিন: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশ ব্যাংকে নাটকীয় পরিবর্তন: দিনভর উত্তেজনা ও ‘মব’ অ্যাকশনের মুখে গভর্নরের বিদায় ঈদে বেতন-বোনাস নিশ্চিতে পোশাক খাতকে সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের<gwmw style="display:none;"></gwmw> নগদে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব: গভর্নরের সঙ্গে ব্যারিস্টার আরমানের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ঢাকা-ওয়াশিংটনের  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> এজেন্ট ও আউটলেট কমলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ১৮ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে ‘ন্যায্য রূপান্তর’ নিশ্চিতের দাবি বিলস-এর মতবিনিময় সভায়<gwmw style="display:none;"></gwmw>

বাংলাদেশ ব্যাংকে নাটকীয় পরিবর্তন: দিনভর উত্তেজনা ও ‘মব’ অ্যাকশনের মুখে গভর্নরের বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন এবং উচ্চপর্যায়ের নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের মেয়াদের অবসান ঘটল। আজ বুধবার তাঁর নিয়োগ বাতিল করে সরকার। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন পেশাদার হিসাববিদ ও ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দিনভর উত্তেজনা ও প্রতিবাদ

আজ সকাল থেকেই মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী আহসান এইচ মনসুরের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গভর্নর বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করেছেন। সম্প্রতি তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ ও বদলির আদেশের প্রতিবাদে এই ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি মানা না হলে কাল বৃহস্পতিবার থেকে তাঁরা ‘কলম বিরতি’ পালন করবেন।

বিদায়ী গভর্নরের শেষ বক্তব্য

নিয়োগ বাতিলের খবরের আগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ড. আহসান এইচ মনসুর তাঁর অবস্থানের পক্ষে অনড় ছিলেন। তিনি বলেন, “পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে জাতি গঠন ও সংকটে সেবা করতে এসেছি। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য অপরিহার্য।”

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ না নিলে আমানতকারীরা তাঁদের অর্থ ফেরত পেতেন না এবং অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসত। একটি ‘কুচক্রী মহল’ ব্যাংকগুলোকে পুনরায় পুরোনো লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে ‘লাঞ্ছিত’ করে বহিষ্কার

গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ড. মনসুর ব্যাংক ত্যাগ করার পরপরই একদল কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহর ওপর চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তা আহসান উল্লাহকে তাঁর কক্ষ থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেন এবং জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে ব্যাংক চত্বর ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এ সময় কর্মকর্তাদের ‘ধর ধর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও নতুন চ্যালেঞ্জ

হঠাৎ করে গভর্নর পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “গভর্নরের পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ড. মনসুর একজন অভিজ্ঞ মানুষ ছিলেন। হুট করে এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও আর্থিক খাতে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ করায় ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক ঝোঁক থাকে করপোরেট স্বার্থের দিকে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ হলো কঠোর তদারকির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

পরবর্তী গন্তব্য

নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে চরম বিভক্ত এবং ব্যাংকিং খাত রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের (NPL) চাপে জর্জরিত। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিতর্ক এড়িয়ে নীতি প্রণয়ন করাই হবে তাঁর সামনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।