মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ মাসে জ্বালানিতে অতিরিক্ত খরচ ৪১২ কোটি ডলার: উপদেষ্টা তিতুমীর সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করল সরকার নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা জরুরি: শিক্ষামন্ত্রী পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

এজেন্ট ও আউটলেট কমলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ১৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে এক অনন্য চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে; যেখানে আউটলেট ও এজেন্টের সংখ্যা কমলেও আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৯,৩৫৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই আমানতের পরিমাণ ছিল ৪১,৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ৭,৫৭১ কোটি টাকা বা প্রায় ১৮ শতাংশ।

অবকাঠামোতে সংকোচন, আমানতে রেকর্ড

আমানত বাড়লেও এই খাতের ভৌত অবকাঠামো কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে:

  • আউটলেট সংখ্যা: ২০২৪ সালে আউটলেটের সংখ্যা ছিল ২১,২৪৮টি, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২০,৫০১টিতে। অর্থাৎ এক বছরে ৭৪৭টি আউটলেট বন্ধ হয়েছে।
  • এজেন্ট সংখ্যা: একই সময়ে সক্রিয় এজেন্টের সংখ্যা ১৬,০১৯ থেকে কমে ১৫,৩২৮-এ নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার কারণে আউটলেটের সংখ্যায় এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে প্রবীণ ব্যাংকার এবং এই খাতের বিশেষজ্ঞ আরফান আলীর মতে, আমানতের এই উল্লম্ফন একটি “ইতিবাচক লক্ষণ”। এটি নির্দেশ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা রাখতে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী।

মূল সূচকসমূহ (২০২৫ বনাম ২০২৪):

সূচকবর্তমান অবস্থা (২০২৫)প্রবৃদ্ধির হার
মোট আমানত৪৯,৩৫৬ কোটি টাকা১৮% বৃদ্ধি
ঋণ বিতরণ১১,৭৫৫ কোটি টাকা১৬% বৃদ্ধি
সক্রিয় হিসাবপ্রায় ২.৫ কোটি–
লেনদেনের পরিমাণ২.৬২ কোটি (অক্টোবর-ডিসেম্বর)৩% হ্রাস

আমানত সংগ্রহে শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলো:

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বাজারে এখনো আধিপত্য ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ও শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো:

১. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি: ২১,৫৩০ কোটি টাকা (বাজারের শীর্ষে)।

২. ডাচ-বাংলা ব্যাংক: ৬,৮৮৭ কোটি টাকা।

৩. ব্যাংক এশিয়া: ৬,৫১৫ কোটি টাকা।

৪. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ৩,৮৬৯ কোটি টাকা।

৫. ব্র্যাক ব্যাংক: ২,৮৯৭ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও উপযোগিতা

ব্যাংকগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলার তুলনায় এজেন্ট ব্যাংকিং একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী মাধ্যম। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ করে তা বড় করপোরেট ঋণে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক দেশে এই সেবা প্রদান করছে।

যদিও লেনদেনের সংখ্যায় সামান্য কিছুটা ভাটা (৩%) দেখা গেছে, তবে ঋণ হিসাবের সংখ্যা বেড়ে ২.৩৯ লাখে পৌঁছানো এটিই প্রমাণ করে যে, এজেন্ট ব্যাংকিং এখন গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠছে।