শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
পাচার আশঙ্কার মাঝেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১% বাড়ল আইবিএফবি: প্রস্তাবিত অর্থবছর ২৭-এর বাজেট বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত রূপরেখা পাঁচ দশকের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আইসিএবি’র কফি টেবিল বুক ‘লেগ্যাসি ইন মোশন’ এর মোড়ক উন্মোচন প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: সেমিনারে বক্তারা গ্রিন ট্রানজিশনে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি টন রডের দাম বাড়তে পারে ১২ হাজার টাকা: বিএসএমএ ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আইইবি প্রজেক্ট শোকেসিংয়ে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ‘ডুবোমিনি’ প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ: ফিচ রেটিংস

পাচার আশঙ্কার মাঝেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ ৪১% বাড়ল

ঢাকা, ১৮ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) : সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’ (এসএনবি)-এর সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

এর আগের বছর (২০২৪) আমানতের পরিমাণ রেকর্ড ৩৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর আবারও এই বড় ধরনের উত্থান দেখা গেল, যা বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ট্যাক্স হ্যাভেন বা করস্বর্গগুলোতে ক্রমাগত পুঁজি পাচার ও সম্পদ স্থানান্তরের ধারাবাহিক প্রবণতাকেই ইঙ্গিত করছে।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং এসএনবি’র তথ্য অনুযায়ী, এই পুঞ্জীভূত তহবিল ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আমানতের একটি অংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈধ পরিচালন তহবিল এবং ইউরোপে বসবাসরত অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) আইনি উপার্জন হলেও, এর একটি বড় অংশই অবৈধভাবে পাচারকৃত সম্পদ বলে প্রবলভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অতীতে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কে পৌঁছেছিল। তবে অভ্যন্তরীণ ডলার সংকট এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে ২০২২ সালে তা ৯৪ শতাংশ কমে মাত্র ৫৫.৩ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কে নেমে আসে। ২০২৩ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৭.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কে।

তবে ২০২৪ সালে এসে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। সে বছর আমানত ৩৩ গুণ বেড়ে প্রায় ৫৮৯.৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কে (তৎকালীন বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৮৭.৮৪ বিলিয়ন টাকা) দাঁড়ায়। মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়কালের সাথেই এই অর্থ জমার উল্লম্ফনের মিল পাওয়া যায়। সর্বশেষ এই ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি বাংলাদেশের পুঁজি পাচার রোধের চলমান চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এর আগে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও তা ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল সুইস সরকার। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সিগফ্রিড রেংগলি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের শর্তে সুইজারল্যান্ডে থাকা অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

আর্থিক বিশ্লেষকদের অনুমান, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ পাচার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কঠোর ব্যাংকিং গোপনীয়তার কারণে ঐতিহাসিকভাবে সুইজারল্যান্ড অর্থ পাচারকারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান চুক্তির কারণে পরিস্থিতি বদলেছে। ফলে আধুনিক অর্থ পাচারকারীরা এখন সুইজারল্যান্ডের চেয়ে শিথিল আইনকানুন সম্পন্ন বিকল্প নিরাপদ দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে। যার অর্থ হলো—দেশ থেকে প্রকৃতপক্ষে পাচার হওয়া মূলধনের প্রকৃত আকার সুইস ব্যাংকের এই হিসাবের চেয়ে আরও অনেক গুণ বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন