বিশেষ প্রতিবেদক, বিডিইকোনমি
ঢাকা: প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানোর পাশাপাশি এবার স্বদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অংশীদার হতে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তবে এ বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ওয়ান-স্টপ সেবা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা জটিলতা দূর করতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সিআইপি-বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধি দল এই প্রস্তাবনা ও দাবি তুলে ধরে।
এর আগে দিনভর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন সংগঠনটির সদস্যরা। একই বিষয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ খাত
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের পক্ষে মোহাম্মদ রুবেল সিআইপি জানান, প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্সের উৎস নন, তারা দেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। বিনিয়োগের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সুবিধা পেলে প্রবাসীরা খাতভিত্তিক এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রস্তুত। প্রস্তাবিত প্রধান খাতগুলো হলো:
- ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং
- ড্রাই ফুড প্রসেসিং ও ড্রাই প্যাকেজিং শিল্প
- সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- পর্যটন, শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা
- প্রযুক্তি নির্ভর ই-রেন্টাল সার্ভিস
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার যদি সহজ অনুমোদন, জমি বা লিজ সুবিধা, রাজস্ব ছাড় এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তবে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে নতুন শিল্প স্থাপন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
১২ বছরের ভিসা জটিলতা ও আটকে পড়াদের ফেরানোর দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএই প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়। সিআইপি প্রতিনিধিরা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অভ্যন্তরীণ মালিক পরিবর্তন (ইন-হাউস ট্রান্সফার) বন্ধ রয়েছে। ফলে হাজার হাজার কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
অতিরিক্ত হিসেবে, সাম্প্রতিক সময়ে আকস্মিক ভিসা বাতিলের কারণে হাজারও প্রবাসী কর্মী ও ব্যবসায়ী দেশে এসে আটকে পড়েছেন। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়:
- দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের দ্রুত তালিকা তৈরি করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আমিরাতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা।
- বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া।
- প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন ও ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করা।
১৫ দফা দাবি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রস্তাবনা
পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিআইপি অ্যাসোসিয়েশন মোট ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বিদেশ যাওয়ার আগে বাধ্যতামূলক ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সবার জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ ও সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, জেলা পর্যায়ে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সংকটে জরুরি সহায়তা ফান্ড গঠন।