নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ রবিবার সংসদে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ রয়েছে। বর্তমান ব্যবহারের হার অনুযায়ী, এই মজুদ দিয়ে আগামী প্রায় ১২ বছর দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশে মোট মজুদ থেকে ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে ৭.৬৩ টিসিএফ।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট মজুদের পরিমাণ ২৯.৭৪ টিসিএফ। যদি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হয় এবং বর্তমান দৈনিক গড় সরবরাহ (প্রায় ১,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট) বজায় থাকে, তবে অবশিষ্ট এই গ্যাস আগামী ১২ বছর চলবে।
নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পেট্রোবাংলার ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার প্রোগ্রামের আওতায় পর্যায়ক্রমে ৫০ ও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৬টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।
ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বাপেক্স (BAPEX) ইতিমধ্যে ব্লক ৭ এবং ৯-এ প্রায় ৩,৬০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা ক্ষেত্রে ১,৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৩ডি সিসমিক সার্ভে শুরু করতে যাচ্ছে।
এছাড়া অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
- বাপেক্স কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিমি এবং জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিমি এলাকায় ৩ডি সিসমিক সার্ভে।
- বিজিএফসিএল কর্তৃক তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় ৬৩২ বর্গকিমি এলাকায় জরিপ।
- এসজিএফএল (SGFL) কর্তৃক লামীগাঁও, লালবাজার, গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ কৈলাশটিলা এবং পশ্চিম ফেঞ্চুগঞ্জ কাঠামোতে ৮৮২ বর্গকিমি এলাকায় ৩ডি সিসমিক সার্ভে।