মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের টাকা ফেরত, ক্ষতিপূরণ চান বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকরা অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধার ধীরগতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা: বেজিয়া সভাপতি সামাজিক সুরক্ষায় জাকাত: সেন্ট্রাল ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ লিজিং প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা, রেজল্যুশন কার্যক্রমে প্রশাসক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ‘ন্যানো ঋণ’ চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষায় ২৫ ল্যাপটপ দিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বিদেশে বাংলাদেশি খেলাপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে ৮ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ব্যাংক

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঢাকা, ২২: আগস্ট গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষে দেশের পুরো আর্থিক খাতের মোট ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ৫২ শতাংশই এই নয়টি প্রতিষ্ঠানের।

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রিমিয়ার লিজিং ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপল’স লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংএ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “এই ৯টি প্রতিষ্ঠানকে লিকুইডেট করা হবে। সরকার নীতিগতভাবে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, সরকারের অনুমোদনের পর ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন-২০২৩’ অনুযায়ী আগামী মাস থেকেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লিকুইডেশন (বন্ধ করে দেওয়া) প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

আইনি প্রক্রিয়ায় লিকুইডেশন : নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি আমানত, ঋণ বা ধার শোধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা যাবে। গভর্নর মনসুর বলেন, “আমরা এটা করছি শুধু আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। তাদের স্বার্থই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।” এই পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন করে লিকুইডেটর (বন্ধের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) নিয়োগ করবে।

‘লাল তালিকা’ এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠান : জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে একটি ‘লাল তালিকা’ তৈরি করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।

লাল তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠান হলো: সিভিসি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, হজ্জ ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, আইআইডিএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, পিপল’স লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং এফএএস ফাইন্যান্স।এই ২০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

নোটিশের জবাবে যে ৯টি প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিকভাবে বন্ধের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর জানান, “তাদের সব পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য ছিল না।”উল্লেখ্য, বেশিরভাগ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।