সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড, কর ফাঁকি ধরলে পুরস্কারের ঘোষণা এনবিআর চেয়ারম্যানের বিনিয়োগ সংস্কারে গতি আনতে ইউএনডিপি, বিডা ও আঙ্কটাডের প্রতিবেদন প্রকাশ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষরিত ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার লোগো উন্মোচন; ২২ মে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী আসর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে সিটি ব্যাংক ও ওয়াটার ডট ওআরজি-র যৌথ উদ্যোগ ব্যাংক একীভূতকরণে অস্পষ্টতা: আমানতকারীদের মধ্যে অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চান প্রশাসকরা<gwmw style="display:none;"></gwmw> তামাকপণ্যের কর বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> সোনালি ধানে মানবিকতার ছোঁয়া: কৃষক ও শহরের মানুষের এক অনন্য মেলবন্ধন

ব্যাংক একীভূতকরণে অস্পষ্টতা: আমানতকারীদের মধ্যে অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চান প্রশাসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সদ্য পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর একটি ধারা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিতে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত ও স্পষ্ট বার্তা দাবি করেছেন ব্যাংকগুলোর প্রশাসকরা।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রশাসকরা এই দাবি জানান। তারা জানান, আগের মালিকরা পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসতে পারেন—এমন গুঞ্জনে আমানতকারীরা টাকা তুলে নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন। অনেকে মুনাফা ছাড়াই শুধু মূল টাকা ফেরত চাইছেন, যা ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সংকট তৈরি করেছে।

বিভ্রান্তির মূলে ১৮(ক) ধারা গত বছর এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসকরা এই ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন।

তবে নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া মোট আর্থিক সহায়তার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। প্রশাসকদের মতে, এই ধারাটি আমানতকারীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে নতুন আমানত আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঋণ আদায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভয়াবহ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে বিশাল আর্থিক বোঝা নিয়ে চলছে:

মোট ঋণ: ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ: মোট ঋণের ৮৪ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি।

মূলধন ঘাটতি: ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকায়।

এই সংকটকালীন সময়ে ব্যাংকটিকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন এবং আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ প্রশাসকরা জানান, আমানতের ওপর ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্তে কিছুটা স্থিতিশীলতা এলেও আইনি অস্পষ্টতায় সেই অর্জন ভেস্তে গেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব এবং আগের মালিকদের ফিরে আসার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

শরিয়াহ-ভিত্তিক এই ব্যাংকগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।