ঢাকা, ৬ জুলাই (বিডিইকোনমি):বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (FY26) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) রপ্তানিতে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এই খাতে রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩,৮৭০ কোটি (৩৮.৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে।
বৈশ্বিক বাজারের এই হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের অংশীদারিত্ব কমেছে, তবে এর বিপরীতে উত্তর আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।
ইইউ বাজারে ধাক্কা, বাজার বহুমুখীকরণের তাগিদ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও, অঞ্চলটিতে রপ্তানি ৩.৩১ শতাংশ কমে ১৯.০৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউ-এর হিস্যা আগের বছরের ৫০.১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯.২5 শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের (গ্রাজুয়েশন) সময় যত ঘনিয়ে আসছে, এই পতন বাজার বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় স্বস্তির আলো
ইউরোপের বাজারে মন্দা চললেও, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছে:
- যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানি ২.৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে মোট রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ১৯.১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০.০১ শতাংশ হয়েছে।
- যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ বাজারে রপ্তানি ০.৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট বাজারের ১১.৩৪ শতাংশ।
- কানাডা: কানাডায় রপ্তানি ৩.২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলারে।
বর্তমানে এই তিনটি দেশ সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে।
অপ্রচলিত বাজারেও মন্দার ছোঁয়া
রপ্তানির এই ধাক্কা শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ ছিল না। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো নতুন ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৪.২৫ শতাংশ কমেছে, যার আর্থিক মূল্য ৬.১৬ বিলিয়ন ডলার। ফলস্বরূপ, মোট রপ্তানিতে এই বাজারগুলোর সম্মিলিত অংশ ১৬.৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
ওভেনের চেয়ে নিটওয়্যারে বেশি পতন
পণ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোশাকের প্রধান দুটি ক্যাটাগরির মধ্যে নিটওয়্যার খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ২.৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ওভেন খাতের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল; এ খাতে রপ্তানি সামান্য (০.৬১ শতাংশ) কমে প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন,
“ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে এবং বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশকে অবশ্যই পণ্যের বহুমুখীকরণে (Product Diversification) জোর দিতে হবে।”
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকতে হলে প্রথাগত পণ্যের বাইরে গিয়ে উচ্চমূল্যের এবং বৈচিত্র্যময় পোশাক তৈরির কোনো বিকল্প নেই।