মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিশ্বমন্দা ও অভ্যন্তরীণ সংকটে হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, আশার আলো দেখাচ্ছে জানুয়ারি বিটকয়েনের বড় ধস: এক সপ্তাহে ২৫% মূল্য হ্রাস, নেমেছে ৬৩ হাজার ডলারের নিচে বাংলাদেশকে আর বিভক্ত করতে দেবো না : ডা. শফিকুর রহমান জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই: তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা: ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য আটকা, দ্রুত চালুর আহ্বান ইউরোচ্যামের ৬ চিনিকল চালুর দাবিতে ৩১ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা সকল ধর্মের মানুষকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই: রাজশাহীতে জামায়াত আমির শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান সরকার কে গঠন করবে তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ : নাহিদ ইসলাম 

স্থল পথে সূতা আমদানি বন্ধ করায়, ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পে মন্দা, বাংলাদেশে রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে

ঢাকা, এপ্রিল ২৯: বাংলাদেশে স্থল পথে সূতা আমদানি বন্ধ করায়, ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পে মন্দা, বাংলাদেশে রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে ।

ভারতের টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশে সুতা রপ্তানির জন্য নতুন উপায় খুঁজছে। দেশটির সাউদার্ন ইন্ডিয়া মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি-জেনারেল কে. সেলভারাজু জানান, ভারত থেকে মোট রপ্তানি হওয়া সুতার প্রায় ৪৫ শতাংশ যায় বাংলাদেশে।

আগে প্রতি মাসে ১০ কোটির বেশি কেজি সুতা রপ্তানি হলেও, এখন তা কমে প্রায় ৯ কোটি কেজিতে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয় টেক্সটাইল মিল মালিকদের দীর্ঘদিনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করার নির্দেশনা জারি করেছে। এই কারণে, ভারতীয় টেক্সটাইল মিলগুলো এখন বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা অনুসন্ধানে মনোযোগ দিচ্ছে।

তারা এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছে।ভারত থেকে বাংলাদেশে যে সুতা রপ্তানি হয়, তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ—যা মূলত রঙিন এবং বিশেষ ধরণের—স্থলবন্দর দিয়ে পরিবহন করা হতো।সম্প্রতি, ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারকরা একটি বৈঠকে বিকল্প পরিবহন পদ্ধতির বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন কনটেইনার জাহাজে করে পাঠানো অথবা অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করা।

তারা বাংলাদেশি ক্রেতাদের সাথেও আলোচনা করেছেন।কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধার্থ রাজগোপাল বলেন, সমুদ্রপথে কনটেইনারে পণ্য পাঠাতে বেশি সময় লাগে, এটাই প্রধান সমস্যা।

বর্তমানেও ভারতের ৭০ শতাংশ সুতা সমুদ্র পথেই বাংলাদেশে যায়। যারা আগে স্থলবন্দর ব্যবহার করতেন, এখন তারাও সমুদ্রপথ ব্যবহার করবেন। কলকাতা থেকে ছোট জাহাজও চলাচল করে, সেগুলো ব্যবহার করার সুযোগ খতিয়ে দেখা দরকার।

সাউদার্ন ইন্ডিয়া মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি-জেনারেল কে. সেলভারাজু আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত মূলত চীন ও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সুতা রপ্তানি করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ভারত থেকে তুলনামূলকভাবে কম সুতা কিনছে।

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ রপ্তানিও যদি ব্যাহত হয়, তাহলে সেই সুতা দেশের বাজারে এসে দাম কমিয়ে দেবে। এর ফলে দেশের টেক্সটাইল খাতের পুরো সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।সেলভারাজু জানান, উত্তর ভারতের টেক্সটাইল মিলগুলো বর্তমানে স্থলবন্দর বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে সমগ্র টেক্সটাইল স্পিনিং শিল্পই ক্ষতির মুখে পড়বে।