বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
৩ মাস পর ইতিবাচক ধারায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ-দ্বীন হাসপাতাল বৃষ্টির অজুহাতে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বিনিয়োগে জোর সরকারের: শামা ওবায়েদ এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে সরবরাহ তলানিতে: গভীর হচ্ছে গ্যাস সংকট, বাসাবাড়িতে হাহাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভাগীয় মামলা ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুইসটেল’ হোটেল হচ্ছে না, ৮০০ কোটি টাকায় ভবনটি কিনছে পূবালী ব্যাংক ইডিএফ ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি

শিল্প রক্ষায় শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ‘জটিল’ ধারা সংশোধনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিকেএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর বেশ কিছু ধারা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সদস্যগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।  

রোববার রাজধানীর বাংলা মোটরে বিকেএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই দাবি জানান। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত কিছু সংশোধনী ‘অস্পষ্ট’ এবং এগুলো শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার একটি ‘পরিকল্পিত অপচেষ্টা’ বলে মনে হচ্ছে।  

মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, ‘বিগত প্রশাসনের কিছু অতি-উৎসাহী ব্যক্তি রপ্তানিমুখী এই শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এই ধরনের নিয়মগুলো প্রণয়ন করে থাকতে পারেন।’   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন অধ্যাদেশের কিছু ধারা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   বিকেএমইএ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেছে, যা মালিকপক্ষ ও ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের (টিসিসি) সুপারিশের সাথে সাংঘর্ষিক:

‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ: বিকেএমইএ-এর মতে, শ্রমিকের সংশোধিত সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত, যা সাধারণ শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তারা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে এই সংজ্ঞায় আরও স্পষ্ট বিভাজন দাবি করেছে।

চাকরি থেকে ইস্তফায় ক্ষতিপূরণ: নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, মাত্র তিন বছর চাকরি করার পর কেউ ইস্তফা দিলে প্রতি বছরের জন্য ১৪ দিনের মজুরি সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিকেএমইএ প্রস্তাব করেছে, এই সুবিধাটি ন্যূনতম ৩ থেকে ৫ বছরের ধারাবাহিক চাকরির পর কার্যকর হওয়া উচিত এবং দীর্ঘ মেয়াদের জন্য আলাদা গ্রেডেড স্কেল (যেমন: ৫-১০ বছরের জন্য ১৫ দিন এবং ১০ বছরের বেশি হলে ৩০ দিনের মজুরি) থাকা উচিত।

সিবিএ নির্বাচন: কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি মাত্র ট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও সেটিকে ‘যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি’ বা সিবিএ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে নির্বাচনে মোট ভোটের ৫০ শতাংশ প্লাস ১ ভোট পাওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড): সংশোধিত অধ্যাদেশে ১০০ জন স্থায়ী শ্রমিক থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকেএমইএ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার ওপর আর্থিক চাপ কমাতে এই সীমা বাড়িয়ে ৫০০ জন করার সুপারিশ করেছে।

ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন: একটি প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে ৫টি পর্যন্ত ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিকেএমইএ। তারা মনে করে, এতে শিল্পে বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে, তাই নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ কমিটি: সহিংসতা ও হয়রানি রোধে ৫ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও এর পরিচালনা নির্দেশিকা আরও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   টেকসই উন্নয়নের ওপর প্রভাব: বিকেএমইএ নেতারা জোর দিয়ে বলেন যে, তারা শ্রমিকদের কল্যাণের পক্ষে, তবে আইনটি অবশ্যই ‘বিনিয়োগবান্ধব’ হতে হবে।

বর্তমান অধ্যাদেশে এমন কিছু ‘উদ্দেশ্যমূলক বাধা’ রাখা হয়েছে যা শেষ পর্যন্ত কারখানা ধ্বংস এবং জাতীয় রপ্তানি হ্রাসের কারণ হতে পারে।   মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমরা মনে করি কিছু বিধান আমাদের শিল্প অবকাঠামো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। নিটওয়্যার খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ ও টিসিসির বাস্তবসম্মত সুপারিশগুলোর সাথে আইনের সামঞ্জস্য করা জরুরি।”  

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ-এর কার্যকরী সভাপতি ফজলীয় শামীম এহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার, সিআইপি এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাশেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বিকেএমইএ আশা প্রকাশ করে যে, সরকার আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল শিল্প পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।